যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছুরিকাঘাতে এক মাদ্রাসাছাত্র নিহতের ঘটনায় আরও একজন আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছুরিকাঘাতে এক মাদ্রাসাছাত্র নিহতের ঘটনায় আরও একজন আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।   ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছুরিকাঘাতে এক মাদ্রাসাছাত্র নিহতের ঘটনায় আরও একজন আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় স্কুল গলিতে ছুরিকাঘাতে এক মাদ্রাসাছাত্র নিহত হয়। এ ঘটনায় এর আগে একজন কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানাধীন বিবির বাগিচা ৪ নম্বর গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আরও একজন কিশোরকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভিকটিম তার বাবার দোকানের কাজ শেষে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে আলোচনা করতে কাজলারপাড় স্কুল গলিতে এক সিনিয়র ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যায়। তাকে না পেয়ে ফেরার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাজেদ মেডিসিন কর্নারের সামনে কয়েকজন কিশোর তাদের পথরোধ করে।

এ সময় ভিকটিম কারণ জানতে চাইলে এক কিশোর বলে, “তুই জানিস ওই দিন কী বলছিলি?”— এ কথা বলেই তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে একজন হামলাকারী কোমর থেকে সুইচ গিয়ার (চাকু) বের করে ভিকটিমের দুই পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় বন্ধুরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পরদিন সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক কিশোরকে শনাক্ত করে সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাজলারপাড় এলাকায় তার খালার বাসা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার (চাকু) উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে একই মামলায় আরও একজন কিশোরকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়।

হেফাজতে নেওয়া কিশোরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।