দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) পরিচালিত মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট (এমএসটিপিপি), অর্থাৎ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালু রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ অর্থ চেয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিআইএফপিসিএল।
বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পুজারি গত ১০ মে পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করেন, সময়মতো অর্থ ছাড় না হলে কোম্পানিটি ঋণ পরিশোধে খেলাপির ঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে কয়লা আমদানি ব্যাহত হওয়া এবং ডেমারেজ চার্জ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটির কারণে আগামী ২৪ মে ব্যাংকিং কার্যক্রমের শেষ দিন হওয়ায় ২০ মে’র মধ্যে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিপিডিবির চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ সচিবের মতামত জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিঠি অনুযায়ী, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে ১ হাজার ২৩৪ মেগাওয়াট নির্ভরযোগ্য সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন কয়লা ব্যবহারে ব্যয় হচ্ছে ২৪ থেকে ২৬ কোটি টাকা। এতে মাসিক কয়লা ব্যয় ৭০০ কোটি টাকার বেশি দাঁড়াচ্ছে।
এ ছাড়া ঋণ পরিশোধ, কাস্টমস ডিউটি, যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ অন্যান্য দায় মেটাতে আরও প্রায় ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
বিআইএফপিসিএলের দাবি, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা বিদ্যুতের বিপরীতে বর্তমানে সরকারের কাছে তাদের পাওনা ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। দ্রুত অর্থ ছাড় না হলে আর্থিক ও পরিচালনাগত সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে চিঠিতে।
দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় গ্রিডে কেন্দ্রটি ৮ থেকে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে।
বিআইএফপিসিএলের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রটি ৭০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে, যা ওই মাসে দেশের মোট উৎপাদনের ৯ শতাংশের বেশি। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রটি ৬৪০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেশের মোট বিদ্যুতের ১১ দশমিক ৫ শতাংশ সরবরাহ করেছিল।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্রীষ্মকালীন উচ্চ চাহিদার সময়ে রামপালের মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হলে জাতীয় গ্রিডে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হতে পারে। এতে লোডশেডিং বাড়ার পাশাপাশি ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে হতে পারে, যা সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়াবে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের অভিযোগ বেড়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস সংকট ও আমদানি করা বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ মার্চ বিপিডিবির চেয়ারম্যানকে পাঠানো আরেক চিঠিতে রমানাথ পুজারি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের মূলধন পরিশোধে ৪০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের জন্য ৯০৩ কোটি টাকা চেয়েছিলেন।
বিপিডিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এপ্রিল শেষে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে বিপিডিবির বকেয়া প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে সরকারের ভর্তুকির অর্থ ছাড় না হওয়ায় এই বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া ভর্তুকি দ্রুত ছাড়ের জন্য অর্থ বিভাগকে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ ভর্তুকি খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিপিডিবির মোট ভর্তুকি চাহিদা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: টিবিএস
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!