বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বলে জানয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ও নারীদের দক্ষ করে গড়ে তুলে একটি সমন্বিত কর্মসংস্থানভিত্তিক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে সরকার কাজ করছে।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো আয়োজিত ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ: এনজিওর ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিচিতি গড়ে তুলতে এনজিওগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের এনজিও খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ছোট, মাঝারি ও বড়—সব ধরনের এনজিও দেশের উন্নয়ন ও বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়াতে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এনজিও খাতের গুরুত্ব অনুধাবন করেন বলেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের আগে এনজিওগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময়েরও নির্দেশনা রয়েছে।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, নারীর ক্ষমতায়ন, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন কর্মসূচি, ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী এবং কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক প্রকল্পে প্রি-পাইলট ও পাইলট কার্যক্রম চালু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তা সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার একা কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করতে পারে না। এজন্য বেসরকারি খাত, এনজিও ও অন্যান্য অংশীজনদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে এনজিওগুলোর ঐতিহাসিক ভূমিকা সরকারি কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বর্তমানে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগের অভাব রয়েছে। দক্ষতা ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে এই ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, সবাইকে অনার্স-মাস্টার্স করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ডিগ্রির মূল উদ্দেশ্য শুধু পুঁথিগত জ্ঞান নয়, এর ব্যবহারিক প্রয়োগও থাকতে হবে। টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব বাড়াতে হবে।
বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, বিদেশে বৃক্ষরোপণসহ নানা কাজে বাংলাদেশি শ্রমিকরা যাচ্ছেন, কিন্তু অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন না। অল্প সময়ের প্রশিক্ষণের মাধ্যমেও তাদের দক্ষ করে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সরকারের যেকোনো নীতি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে অংশীদার হিসেবে সম্পৃক্ত করা গেলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
নির্বাচিত সরকারের তিন মাস পূর্তি উপলক্ষে জনগণের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ ও মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আগামী বাংলাদেশ আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে গড়ে তুলব, ইনশা-আল্লাহ।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!