যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার  বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।   ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) দুপুর ২টায় ফ্লোরিডার টাম্পায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় ইউএসএফের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য এবং মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি অংশ নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাস জানায়, জানাজা শেষে বৃষ্টির মরদেহ সংশ্লিষ্ট ফিউনারেল সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৭ মে) ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হবে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ আগামী ৯ মে (শনিবার) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

অরল্যান্ডো বিমানবন্দরে মরদেহ হস্তান্তরের সময় মিয়ামি কনস্যুলেটের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুরো প্রক্রিয়াটি ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিয়ামি কনস্যুলেট সমন্বয়ের মাধ্যমে তদারকি করছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত দুই শিক্ষার্থী-জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করছে বাংলাদেশ সরকার।

 ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করা হয়। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকার কাছে কয়েকটি কালো আবর্জনার ব্যাগ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, লিমনের মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার শরীরে কোনো কাপড় ছিল না।

এ ঘটনায় হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা তার কাছ থেকে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বৃষ্টির মরদেহও পরে শনাক্ত করা হয়। লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে কিছুটা দূরের একটি জলাশয় থেকে গত ২৬ এপ্রিল খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। পরে গত ১ মে স্থানীয় পুলিশ সেটি নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বলে পরিবারকে নিশ্চিত করে।

এর আগে একই ঘটনায় নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত সোমবার (৪ মে) ঢাকায় পৌঁছায়।