ঢাকায় আজ ভোর থেকেই অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়।
ঢাকায় আজ ভোর থেকেই অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়।   ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় আজ ভোর থেকেই অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়।  যা ভোর পাঁচটার পর থেকে সকাল সাতটার আগ পর্যন্ত টানা অব্যাহত ছিল। এ ভারী বৃষ্টির ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

গ্রিনরোড, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর সংলগ্ন সড়ক, জিগাতলা, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়া, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, মালিবাগ রেলগেট, মৌচাক, মগবাজার এবং হাতিরঝিলের মধুবাগ এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে রাস্তায় পানি জমে যায়।

ছুটির দিন হওয়ায় সকালবেলায় যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল, ফলে ভোগান্তি কিছুটা কম অনুভূত হয়েছে। তবে সকাল ৮টার পরও অনেক সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

জিগাতলা থেকে কারওয়ান বাজারে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ভোগে পড়েন সাংবাদিক মাহফুজ উদ্দীন কামাল। তিনি জানান, জিগাতলায় রিকশার পাদানি পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় পা তুলে বসতে হয়েছে। এরপরও চলার সময় পানির ছিটায় ভিজে যান, এবং ভেজা অবস্থাতেই তাঁকে পুরো দিন কাজ করতে হবে।

একইভাবে খিলগাঁও থেকে কারওয়ান বাজারে আসার পথে ভোগান্তিতে পড়েন গণমাধ্যমকর্মী মাহফুজা রহমান। তিনি বলেন, মে দিবস উপলক্ষে বাস না থাকায় দুই দফায় রিকশা বদলে যাত্রা করতে হয়েছে। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। রিকশা ভাড়াও দিতে হয়েছে দ্বিগুণ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের ছয়টি বিভাগে আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে রাজধানীতেও আরও বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে।

গেল রবিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাতের কারণে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ কমে এসেছে।  মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হলেও বৃহস্পতিবার সকালে কিছুটা বিরতি দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৬০ মিলিমিটার। এর আগের দিন পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় সর্বোচ্চ ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।