বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জিডিপি ভারতের ওপরে যেত: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কঠিন অর্থনৈতিক সময় পার করছে এবং আগামী দুই বছর পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এই অবস্থা মোকাবিলায় সরকারকে কঠোর ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, ২০০৫ সাল থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থাকলে দেশের জিডিপি ভারতের চেয়েও বেশি হতে পারত। তিনি বলেন, সেই সময় প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারতাম।

বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে বিশ্বেও নিম্ন অবস্থানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।

দারিদ্র্যের হার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২২ সালে যেখানে তা ছিল ১৭–১৮ শতাংশ, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ২৯ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ প্রবণতা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বেসরকারি খাতের বিনিয়োগেও বড় ধাক্কার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের হার জিডিপির মাত্র ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০০৫-০৬ সালে ছিল ১৮ দশমিক ২৭ শতাংশ।

রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে আগে ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি ছিল। একইভাবে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে বড় পতনের কথাও জানান তিনি।

খেলাপি ঋণের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তা ৩০ শতাংশের বেশি, যা অর্থনীতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বা ‘ফিসকেল স্পেস’ ক্রমশ কমে যাচ্ছে, যা উন্নয়ন ব্যয় পরিচালনায় চাপ সৃষ্টি করছে।

সবশেষে তিনি বিরোধী দলসহ সবাইকে সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।