‘গুম-খুন ও নির্বাসনের যাতনা আমি বুঝি, শহীদদের স্বপ্ন বৃথা যেতে দেবো না’
সংসদে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।   ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে আবেগঘন বক্তব্যে গুম, খুন ও নির্বাসনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শহীদদের ত্যাগ এবং জনগণের সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক বিজয় কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

নিজের দীর্ঘ ১৯ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, গুম ও নির্বাসনের স্মৃতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুম হওয়া মানুষ আর ফিরে না আসা স্বজনদের যে হাহাকার, তা আমি নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছি।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে সাড়ে ৯ বছর নির্বাসন ও কারাবাসের অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

গুম হওয়া নেতা ইলিয়াস আলী-এর পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাদের সন্তানরা আজও অপেক্ষা করে বাবার ফিরে আসার জন্য। সেই অশ্রুর মর্যাদা দিতে হলে এমন রাষ্ট্র গড়তে হবে, যেখানে আর কোনো গুম বা অধিকার হরণ হবে না।

তিনি ২০২৬ সালের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তকে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক করার আহ্বান জানান এবং এ লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছেন, তারাই প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা—এটি এখন সংসদীয় আইনে স্বীকৃত। এ নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ফল। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশের নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে এবং এতে কোনো কারচুপির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সংবিধান সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে বিতর্কের জবাবে তিনি বলেন, তার দল জনগণের সার্বভৌমত্বের পক্ষে সবসময়ই অবস্থান নিয়েছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনে গণভোটের প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদকে পাশ কাটিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের প্রক্রিয়া প্রতারণামূলক এবং এটি দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংসদের বাইরে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জনগণের প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার নিয়ে তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। 

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের বিকাশে এ ধরনের শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি অচলাবস্থা নিরসনে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ভবিষ্যৎমুখী সংবিধান প্রণয়নে সংসদীয় প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশনায়ক তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।