সংসদ ভবন-অস্ত্রাগারে হামলার শঙ্কায় সতর্কতা জারি 
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন।   ছবি: আরটিএনএন

দেশে একটি উগ্রবাদী নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা ঘিরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ অবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তারা। 

শনিবার (২৫ এপ্রিল) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, আমরা এই তথ্যটা পেয়েছি। আমাদের সিটিটিসি সাইবার ইন্টেলিজেন্ট এবং আমাদের স্পেশাল অ্যাকশন টিম এ বিষয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় যে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইনশাআল্লাহ আমরা  সমন্বিতভাবেই এটি মোকাবিলা করব। আমাদের যে সিকিউরিটি প্ল্যানিং আছে, সে অনুযাহী  একর্ডিংলি কাজ করব।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, যেসব স্থানের তথ্য এসেছে, বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি, সুতরাং আমার মনে হয় এখনই মন্তব্য করার সময় হয়নি। 

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি, তাই আগাম মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। কে কী মন্তব্য করেছে, তার জের ধরে আমরা কোনো কাউন্টার মন্তব্য করতে চাই না। আমরা আমাদের কাজ করছি। পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

অপরিদকে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে হামলার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই চক্রটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন- জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এছাড়া তারা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যের ইঙ্গিত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।

এই পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।