এসএসসি রীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিটিটিসি ইউনিট।   ছবি: আরটিএনএন

চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সিফাত আহমেদ সজিব, মোহাম্মদ সালমান, মেজবাউল আলম মাহিন এবং মোহাম্মদ মহিউজ্জামান মুন্না।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গত ২০ এপ্রিল সিটিটিসির অনলাইন ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির সময় ‘SSC 2026 Question Paper First Group’ নামে একটি ফেসবুক পেজ শনাক্ত করে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার তাজপুর এলাকা থেকে সিফাত আহমেদ সজিবকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ এপ্রিল বগুড়ার ধুনট এলাকা থেকে মোহাম্মদ সালমান এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের দাদনপুর মালিপাড়া থেকে মেজবাউল আলম মাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২৪ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের শাহ শরীফ জিন্দানি (রহ.) মাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে মহিউজ্জামান মুন্নাকে আটক করা হয়।

সিটিটিসি জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিল।

মুনশী শাহাবুদ্দীন আরও জানান, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির দেওয়া তথাকথিত প্রশ্নপত্রের সঙ্গে চলমান পরীক্ষার প্রকৃত প্রশ্নের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তারা মূলত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে প্রতারণা করে আসছিল এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। তারা কতদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণা চালিয়ে আসছে এবং মোট কত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সিটিটিসির বিশেষ টিম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।