সারাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
সারাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।   ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিপিসির পরিচালক (বিপণন) মো. সাবেত আলী। তিনি জানান, চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাজারের চাহিদা সামাল দিতে ডিজেল ও পেট্রোলের পাশাপাশি অকটেনের সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৭ হাজার ১৮৮ টন জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি—২ লাখ ৮২২ টন। এছাড়া কেরোসিন ২ হাজার ৩৭৯ টন, পেট্রোল ২২ হাজার ৫৫৫ টন, অকটেন ২০ হাজার ৪১২ টন, ফার্নেস অয়েল ৩০ হাজার ৯৬৫ টন এবং জেট ফুয়েল ৩০ হাজার ৫৫ টন বিক্রি হয়েছে।

শুধু ১৮ এপ্রিল একদিনেই বিক্রি হয়েছে ১২ হাজার ১৩১ টন ডিজেল, ১০৫ টন কেরোসিন, ১ হাজার ২৫৬ টন পেট্রোল, ১ হাজার ২১৯ টন অকটেন, ২ হাজার ৯১২ টন ফার্নেস অয়েল এবং ১ হাজার ৯০১ টন জেট ফুয়েল।

সাধারণত প্রতি মাসের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়। অর্থাৎ বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে কমানো অথবা বাড়ানো হয়। কিন্তু মাস শেষ হওয়ার আগে সরকার গত শনিবার দিবাগত রাতে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করে। অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম লিটারে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। বর্তমানে ডিজেলের মজুত আছে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন। আগামী দুই সপ্তাহে ৪ লাখ ৭৮ হাজার টন ডিজেল মজুতে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি জাহাজে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল দেশে পৌঁছেছে। এর বাইরে সরাসরি ক্রয়ের আদেশ পাওয়া কোম্পানি ডিজেল সরবরাহ করলে মজুত আরও বেড়ে যাবে।

বিপিসির তথ্যে জানা যায়, দেশে বর্তমানে অকটেনের কোনো ঘাটতি নেই। অকটেন মজুত করার সক্ষমতা আছে ৪৫ হাজার ৮১৯ টন। ১৭ এপ্রিল বিক্রির পর অকটেন মজুত আছে ২৯ হাজার ৪৮৪ টন। গত শুক্রবার ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ এসেছে। এটি খালাস করা হলে সক্ষমতার বেশি হবে মজুত। দেশীয় উৎস থেকেও প্রতিদিন অকটেন উৎপাদন হচ্ছে।

বর্তমানে পেট্রলের মজুত আছে ১৮ হাজার ৮৩০ টন। এটি শতভাগ দেশে উৎপাদিত হয়। আগের বছরের তুলনায় গত মাসে ১৫ শতাংশ পেট্রল কম সরবরাহ করা হয়েছে। এপ্রিলে কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। এখন সরবরাহ বাড়ানো হতে পারে।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের মধ্যে আগের বছরের তুলনায় গত মাসে ডিজেলের সরবরাহ কমানো হয় ১০ শতাংশ। এপ্রিলে কমেছে ৬ শতাংশ। এখন সরবরাহ বাড়াচ্ছে বিপিসি

জ্বালানির সরবরাহ বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।