‘রেড গ্রাস’ বা ‘লাল ঘাস’ ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে আনা আট কোটি টাকার জাফরান জব্দ করেছে শুল্ক বিভাগ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট লিংকের ইয়ার্ড থেকে জব্দ করা পণ্যটি রাজশাহীর বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগারে পরীক্ষায় জানা যায়, এটি আসলে উচ্চমূল্যের জাফরান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সোনামসজিদ স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের ইনচার্জ সহকারী কমিশনার (এসি) সাব্বির রহমান জিসান জানান, শুল্ক ফাঁকি দিতে উদ্ভিদজাত ‘রেড গ্রাস’ হিসেবে ঘোষণা করা পণ্যটি খালাসের চেষ্টা করা হয়।
আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের চাপ থাকা সত্ত্বেও শুল্ক বিভাগ পণ্যটির শুল্কায়ন থেকে বিরত থাকে। পরদিন ৫ এপ্রিল পণ্যটির কায়িক যাচাই (ফিজিক্যাল ইনস্পেকশন) করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ৮ এপ্রিল ‘রেড গ্রাস’ ঘোষণাকৃত পণ্যটি জব্দ করা হয়। পণ্যটির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হতে ৯ এপ্রিল এর নমুনা রাজশাহী বিভাগীয় বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগারে পাঠানো হয়। ১৩ এপ্রিল গবেষণাগার কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ‘রেড গ্রাস’ নামে ঘোষিত পণ্যটি আসলে জাফরান।
পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর সোনামসজিদ শুল্ক স্টেশন থেকে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে শুনানির জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় শুল্ক কমিশনারের দপ্তরে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
সহকারী কমিশনার সাব্বির রহমান জিসান জানান, আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের জন্য নির্ধারিত শুল্কায়ন কোড রয়েছে এবং সে অনুযায়ী শুল্ক আদায় করা হয়। এই পণ্যটিকে ভারতীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘পূজা পাট্টি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে পরীক্ষায় এটি জাফরান হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। জাফরানের শুল্কহার অনেক বেশি। শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং পণ্য খালাস স্থগিত রাখা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘রেড গ্রাস’ হিসেবে ঘোষণাকৃত ২০০ কেজি জাফরানের শুল্ক মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। কিন্তু ‘রেড গ্রাস’ হিসেবে পণ্যটি ছাড় হলে শুল্ক বিভাগ মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা রাজস্ব পেত। ফলে প্রায় দুই কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি যেত বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শুল্ক কর্মকর্তা জানান।
এ বিষয়ে জানতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সূচি এন্টারপ্রাইজের মালিক আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, পণ্যটি জাফরান নয়, বরং প্রকৃতই ‘রেড গ্রাস’। তিনি আরও বলেন, গবেষণাগার থেকে ভুল প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এবং আমদানিকারক পুনঃপরীক্ষার আবেদন করবেন।
রাজশাহী বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগারের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, নমুনা পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি ‘রেড গ্রাস’ নয়, বরং উচ্চমানের জাফরান। অনুবীক্ষণিক পরীক্ষাতেও একই ফল পাওয়া গেছে। তিনি দাবি করেন, তাদের পরীক্ষার ফলাফল সঠিক।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় শুল্ক কমিশনার মাহবুবুর রহমান জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বা প্রতিনিধিকে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পণ্যটির আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!