প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   ছবি: আরটিএনএন

স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধী দলের কাঁধে চেপে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া যখন একবার সরকার গঠন করেছিলেন, তখনকার বিরোধী দল বলেছিল— বিএনপিকে এক মিনিটও শান্তিতে থাকতে দেবে না। বর্তমান যারা বিরোধী দলে বসছে, এরাও একই কাজ শুরু করে দিয়েছে। ওই যে স্বৈরাচারের ভূত, এদের ভেতরেও আসর করে গিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত এবং স্থানীয় কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে। তারা জনগণের কল্যাণে বর্তমান সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত করতে নানা অপকৌশল অবলম্বন করছে।

তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, ‘স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু তার ভূত রয়ে গেছে। জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, অতীতে একটি গোষ্ঠী গণতন্ত্রের কথা বলে জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করেছে এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করেছে। সেই অশুভ শক্তির অপতৎপরতা এখনও বন্ধ হয়নি। তারা বিভিন্ন কায়দায় সরকারের উন্নয়নমূলক কাজকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

সরকারপ্রধান বলেন, জুলাই সনদে সই করার জন্য সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনুস যখন ডেকেছিল, সবচেয়ে প্রথমে বিএনপি গিয়েছিল। বিএনপি সনদে সই করেছিল। কাজেই যে জুলাই সনদ বিএনপি সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর, প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি লাইন আমরা বাস্তবায়ন করবো।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষক ও মেহনতি মানুষের সরকার। আজ যে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হলো, তা কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখবে। এ সময় তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পৌঁছে দিতে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, যেখানে উপনির্বাচন হয়েছে সেখানের মানুষ শান্তিতে আছে, পরিস্থিতি ঠান্ডা; কিন্তু পরিস্থিতি গরম বায়তুল মোকাররমে। যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, সেটা জনগণের অজানা নয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাকে স্বাগত জানান। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি নববর্ষের অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন। সভায় সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এসএস/আরটিএনএন