সৌদি আরব থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে হুতি হামলায় হতাহতের ঘটনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বুধবার এ নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসসহ সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, হুতিরা সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় হতাহতের পাশাপাশি দেশটির যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সম্প্রতি দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এর আগে সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করা হলে ড্রোন প্রতিহত করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি মার্কিন কূটনৈতিক মিশন থেকে কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি স্থান থেকে মার্কিন কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাঁদের কয়েকজনকে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে সৌদি আরবে নতুন করে হুতি হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ইয়েমেনের হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বাড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতি হামলায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক পর্যায়েও তৎপরতা বাড়ছে। একটি সরকারি দলের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তুরস্ক সৌদি আরবের সঙ্গে করা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় দেশটিতে সেনা পাঠানোর অনুমোদন নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও সৌদি আরবের ভূখণ্ড রক্ষায় তাঁর দেশের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
ফলে সৌদি আরবকে ঘিরে হুতি হামলার প্রভাব শুধু ইয়েমেন-সৌদি সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাত এবং জ্বালানি ও বাণিজ্যপথের ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান নিয়ে নতুন সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা
সৌদি আরব থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এর পেছনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য নতুন সামরিক উত্তেজনার ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তটির সঙ্গে ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে ইরানে হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচনের পর আবার হামলা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রসঙ্গে তিনি দেশটির ‘মানচিত্রই পাল্টে দেওয়া’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরান বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আঞ্চলিক জোটের হিসাব-নিকাশ
এদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নেতৃত্বে মক্কা জোটের তৎপরতাও এগোচ্ছে। ইরানকে ঘিরে জোটভুক্ত দেশগুলোর নিজস্ব উদ্বেগ ও স্বার্থ রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের দিকেও তাদের নজর রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে ভালো ফল করলে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যনীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে—এমন ধারণাও রয়েছে। তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা স্পষ্ট নয়। ৩ নভেম্বরের পর ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও পরিষ্কার হতে পারে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!