ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পথে কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি করছে কি না, তা নিয়ে স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কের মন্তব্যের জবাব দিয়েছে ভারত সরকার। মাস্কের অভিযোগ, দেশটির কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তবে নয়াদিল্লি বলছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার অনুমোদনে কোনো প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে না; সবার জন্যই একই নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রযোজ্য।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুতে কিছু ‘অলিগার্ক’ ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠী বাধা দিচ্ছে। তার দাবি, এসব গোষ্ঠী নিজেদের ব্যবসায়িক আধিপত্য অক্ষুণ্ন রাখতেই প্রতিযোগী হিসেবে স্টারলিংকের প্রবেশ ঠেকাতে চাইছে।
মাস্কের এই বক্তব্যের পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নাকচ করে দেয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ সেবার জন্য ভারতে একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন অনুমোদনব্যবস্থা রয়েছে।
একই নিয়মে চলছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পাওয়া সব প্রতিষ্ঠানকেই নির্ধারিত নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে আটকে রাখা বা বাড়তি সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।
এখন পর্যন্ত ভারতে গ্লোবাল মোবাইল পার্সোনাল কমিউনিকেশন বাই স্যাটেলাইট বা জিএমপিসিএস সেবা দেওয়ার জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে। এগুলো হলো ইলন মাস্কের স্টারলিংক, ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস।
এ ছাড়া অ্যামাজনের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্প অ্যামাজন লিও লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ এখনো চলমান। সংশ্লিষ্ট কোনো কোম্পানির নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন হলে পরবর্তী ধাপে তারা স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য আবেদন করতে পারবে।
স্টারলিংকের সেবা চালু নিয়ে জটিলতা
স্টারলিংক ভারতে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো দেশটিতে বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ইলন মাস্কের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ভারত সরকারের দাবি, স্টারলিংকসহ লাইসেন্স পাওয়া তিন প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে প্রায় একই ধরনের নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ফলে স্টারলিংককে আলাদাভাবে আটকে রাখার অভিযোগের ভিত্তি নেই বলে মনে করছে দেশটির সরকার।
অবকাঠামো প্রস্তুত স্টারলিংকের
এর আগে ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ স্পেসএক্সের স্টারলিংক বিজনেস অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার জানিয়েছিলেন, ভারতে সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় অংশ প্রস্তুত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় স্টারলিংকের জন্য ২০টি গেটওয়ে সাইট স্থাপন করা হয়েছে। এসব সাইটে শত শত অ্যান্টেনা বসানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভারতের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক বিধি অনুসরণ করে ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশের ভেতরেই সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে স্টারলিংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে এখন নিরাপত্তা যাচাই এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের প্রক্রিয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!