আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) জলবায়ু বিষয়ক পরামর্শমূলক মতামতের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রস্তাবটি ১৪১-৮ ভোটে গৃহীত হয়।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২১ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু উত্থাপিত এ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর সুস্পষ্ট আইনি দায় রয়েছে। আইসিজের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক মতামতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াকে রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
যদিও আদালতের এ মতামত আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জলবায়ু মামলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিচারকরাও বিভিন্ন রায়ে এ মতামতের উল্লেখ করতে শুরু করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৪১টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয়। এছাড়া ভারত, কাতার, নাইজেরিয়া ও তুরস্ক ভোটদানে বিরত থাকে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাধারণ পরিষদের এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর দায়বদ্ধতার শক্তিশালী স্বীকৃতি।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ একাধিক পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার নীতি অব্যাহত রেখেছে। জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস দাবি করেন, প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে ‘অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভোটের আগে জাতিসংঘে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওদো তেভি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি ইতোমধ্যেই দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলে বাস্তব হয়ে উঠেছে। খরা, ফসলহানি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বহু জনগোষ্ঠীকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার দেশগুলোর অনেকেই এই সংকট সৃষ্টিতে সবচেয়ে কম দায়ী। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।
তুভালুর গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২ মিটার। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে দেশটির বড় অংশ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে দেশটির বহু নাগরিক অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ জলবায়ু অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন।
এদিকে নাউরু সরকার জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ স্থানান্তর তহবিল গঠনের জন্য ধনী বিদেশিদের কাছে নিজেদের পাসপোর্ট বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। এই অর্থ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য জনসংখ্যা স্থানান্তর ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে।
২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সেই সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!