ইউক্রেনের নজিরবিহীন ড্রোন হামলা, রাশিয়ায় নিহত ৪
ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার মস্কো ও বেলগোরোদ অঞ্চলে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।   ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মস্কো অঞ্চলে তিনজন এবং সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে একজন রয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় রবিবার (১৮ মে) বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর ইউক্রেনের চালানো হামলায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ৫৫৬টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পরে ভোর হওয়ার পর আরও ৩০টি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এটিকে রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের অন্যতম বৃহত্তম ড্রোন হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১৪টি রুশ অঞ্চল, দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এবং কৃষ্ণ ও আজভ সাগরের আকাশে এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজধানী মস্কোর আশপাশের এলাকায়।

মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ টেলিগ্রামে জানান, একটি ড্রোন ব্যক্তিগত বাড়িতে আঘাত হানলে এক নারী নিহত হন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও একজন আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পৃথক হামলায় আরও দুই পুরুষ নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, রাত ৩টা থেকে রাজধানী অঞ্চলে বড় ধরনের ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে মস্কো শহরের মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানীতে রাতভর ৮০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া একটি তেল ও গ্যাস শোধনাগারের কাছে নির্মাণকাজে থাকা শ্রমিকরাও আহত হয়েছেন। তবে শোধনাগারের উৎপাদন কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলের শেবেকিনো জেলায় ড্রোন হামলায় একটি লরিতে থাকা এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়ার ছোড়া ২৮৭টি ড্রোনের মধ্যে ২৭৯টিই তারা প্রতিহত করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ২৪ জন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হওয়ার পর পাল্টা হামলার ঘোষণা দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চেষ্টা চালালেও সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে সেই উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয়ের বার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত তিন দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই মস্কো ও কিয়েভ আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা জোরদার করেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।