মাত্র দুই বছর আগে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক বিজয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন কিয়ের স্টারমার। সেই বিজয়ের উত্তেজনা এখন বহু দূরে। ব্রিটেনের রাজনীতি এই মুহূর্তে এমন এক ঘূর্ণিপাকে পড়েছে, যেখানে স্টারমারের নিজের দলের ৯০-এরও বেশি এমপি তাঁর পদত্যাগ চাইছেন, মন্ত্রীরা একে একে পদ ছাড়ছেন। রবিবার (১৭ মে) ডেইলি মেইলে প্রকাশিত এক রিপোর্ট বলছে, স্টারমার নিজেই ঘনিষ্ঠ মহলকে জানিয়ে দিয়েছেন — তিনি সরে যেতে প্রস্তুত, শুধু চান সেটা হোক "নিজের শর্তে এবং মর্যাদার সঙ্গে।" যুক্তরাজ্যের এমন অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির আদ্যোপান্ত পড়ুন আরটিএনএন-এর বিশেষ রিপোর্টে।
ডেইলি মেইল কী বলছে
মন্ত্রিসভার একটি সূত্রের বরাতে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, স্টারমার পদত্যাগ করতে প্রস্তুত, তবে তিনি নিজের শর্তে এটি করতে চান। সূত্রটি বলেছে, "তিনি বুঝতে পারছেন বর্তমান বিশৃঙ্খলা আর টেকসই নয়। তিনি শুধু চান এটা মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজের পছন্দমতো উপায়ে হোক। তিনি একটি সময়সূচি নির্ধারণ করবেন।"
রিপোর্টে আরও জানা গেছে, স্টারমার ১৮ জুনের মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের আগেই ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়তে চান। তবে স্টারমারের কার্যালয় ও লেবার পার্টি এই খবরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
সংকটের শুরু যেভাবে
২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি থেকেই এই সংকটের শুরু। লেবার ৩৫টি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং প্রায় ১৫০০ কাউন্সিলর পদ হাতছাড়া হয়েছে। বিবিসির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, সারাদেশে নির্বাচন হলে লেবার পাবে মাত্র ১৭ শতাংশ ভোট, যা ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে দল এই নির্বাচনে ইংল্যান্ডে মোট ১৪৫৪টি আসন জিতে নিয়েছে। এর আগে পিটার ম্যান্ডেলসনকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বড় বিতর্ক হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এপস্টেইন ফাইল প্রকাশ হলে ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে দণ্ডিত শিশু যৌন নির্যাতনকারী জেফ্রি এপস্টেইনের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। স্টারমার ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করেন এবং স্বীকার করেন নিয়োগটি ভুল ছিল। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেন।
দলের ভেতরে বিদ্রোহ
মে মাসের মাঝামাঝিতে ৯৭ জন লেবার এমপি স্টারমারের পদত্যাগ বা বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এক মন্ত্রী, চার জুনিয়র মন্ত্রী এবং চার মন্ত্রিসভার সহকারী পদত্যাগ করেছেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগ থেকে। তিনি পদত্যাগ করে স্টারমারকে বিদায়ের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। স্বাস্থ্য উদ্ভাবনবিষয়ক মন্ত্রী জুবির আহমেদও পদত্যাগ করে চিঠিতে লিখেছেন, "সাম্প্রতিক দিনগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, সারাদেশের মানুষ আপনার প্রতি আস্থা হারিয়েছেন।"
জনসমর্থন তলানিতে
ইউগভের জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক স্টারমার সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত পোষণ করেন। তিনি এই মুহূর্তে রেকর্ড সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত। অনেকে তাঁর পরিস্থিতিকে মাত্র ৪৯ দিন ক্ষমতায় থাকা লিজ ট্রাসের সঙ্গে তুলনা করছেন।
সম্ভাব্য উত্তরসূরি কারা
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম সবচেয়ে এগিয়ে। তিনি ১৮ জুনের মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা পার্লামেন্টে প্রবেশের পথ খুলবে। এছাড়া ওয়েস স্ট্রিটিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং এড মিলিব্যান্ডের নামও আলোচনায় রয়েছে।
স্টারমার অবশ্য এখনো প্রকাশ্যে বলছেন পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু দলে ও বাইরে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে এই অবস্থান কতদিন টেকসই থাকবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!