গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় হামাসের সামরিক শাখার প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। হামলায় তার স্ত্রী ও ১৯ বছর বয়সী কন্যাও প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার (১৬ মে) এক বিবৃতিতে হামাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করে, শুক্রবার (১৫ মে) গাজা সিটিতে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে চালানো বিমান হামলায় হাদ্দাদ নিহত হন। গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলের হাতে নিহত হামাসের ঊর্ধ্বতন নেতাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা।
শুক্রবার ছিল ফিলিস্তিনিদের ‘নাকবা দিবস’-এর ৭৮তম বার্ষিকী। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় লাখো ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করার স্মরণে প্রতিবছর দিনটি পালন করা হয়। এবারের নাকবা দিবসেই হামাসের এই শীর্ষ নেতাকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা ঘটল।
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া হাদ্দাদ সংগঠনটির সামরিক অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। শনিবার মধ্য গাজার আল-আকসা মার্টার্স মসজিদে তার, তার স্ত্রী এবং কন্যার যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে, একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী হামলাটি চালায়।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার অন্তত দুটি পৃথক হামলায় তিন নারী ও শিশুসহ সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
শনিবারও দুটি পৃথক বিমান হামলায় আরও অন্তত তিনজন নিহত হন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় দুজন এবং উত্তরের জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একজন নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৮৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক উভয়ই রয়েছেন। একই সময়ে সশস্ত্র হামলায় চার ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হাদ্দাদকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, হাদ্দাদ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন।
ইসরায়েলি বাহিনীর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের মে মাসে মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর হাদ্দাদ গাজায় হামাসের সামরিক প্রধানের দায়িত্ব নেন। হামাস সূত্রে জানা যায়, ‘দ্য ঘোস্ট’ নামে পরিচিত এই নেতা এর আগেও ইসরায়েলের একাধিক হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে হামাস প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!