বুধবার (১৩ মে) রাত থেকে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে যে ভয়াবহ ঝড় আছড়ে পড়েছে, তার ক্ষত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ধুলোঝড়, তীব্র বৃষ্টি ও বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা এখন ১০৪-এ পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও ৫২ জন। উত্তর প্রদেশের রিলিফ কমিশনার হরিকেশ ভাস্কর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যু ১০৪ ছাড়িয়েছে, আহত অর্ধশতাধিক
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ মৃত্যু ঘটেছে গাছ পড়ে, দেয়াল ধসে এবং বজ্রপাতে। প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে রয়েছে একটি আলাদা মর্মান্তিক গল্প।
বুদাউনের সিদ্ধপুর কাইথোলি গ্রামে ১০ বছরের মৌসমি ও ৯ বছরের রাজনি ঝড়ের সময় একটি কুঁড়েঘরে আশ্রয় নিয়েছিল। হঠাৎ মাটির দেয়াল ধসে পড়ে দুটি শিশুই মারা যায়। তাদের সঙ্গে থাকা কল্লো ও নেহা নামের দুই নারী গুরুতর আহত হন।
সোনভদ্রে ৩৮ বছরের মাধব সিং ঝড়ের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই গাছটিই ভেঙে পড়ে তার মৃত্যু হয়। বুদাউনে ট্রাকচালক যোগেশ বিলসি সড়কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, একটি ইউক্যালিপটাস গাছ ভেঙে পড়ে তার ক্যাবিনে। ২২ বছরের অনশুল শর্মা বাবার জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিলেন, পথেই গাছ পড়ে তার মৃত্যু হয়।
ফতেহপুরে সবচেয়ে বেশি ৯ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজন নারী। ভাদোহিতে ৬ জন, বুদাউনে ৫ জন এবং প্রয়াগরাজে ১৭ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
টিনের সঙ্গে আকাশে উড়ে গেলেন শ্রমিক
এই ঝড়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে বেরেলি জেলায়। দিনমজুর নান্হে মিয়াঁ কাজ করছিলেন, হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড়ের দমকে টিনের চালাসহ তিনি প্রায় ৫০ ফুট উপরে উঠে যান এবং ৮০ ফুট দূরে একটি মাঠে ছিটকে পড়েন। ভাইরাল হয়ে যাওয়া এই ভিডিওটি এই ঝড়ের সবচেয়ে চেনা দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
নান্হে মিয়াঁ পরে এএনআইকে বলেছেন, 'আমি কাজ করছিলাম, হঠাৎ ঝড় আসে। তারপরই কাঠামোটা উঠতে শুরু করে। আমার সঙ্গে আরও চারজন ছিলেন।' তিনি বেঁচে গেছেন, তবে পায়ে মেটাল প্লেট লাগানোর মতো মারাত্মক ফ্র্যাকচারসহ সারা শরীরে একাধিক আঘাত পেয়েছেন।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ঝড়ে ৮৭টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১১৪টি গবাদিপশু মারা গেছে। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, রাস্তার ধারের স্টলের কাঠের আসবাব ধুলার ঝাপটায় উড়ে গেছে, গাছ ও বিলবোর্ড উপড়ে পড়েছে গাড়ির ওপর। ভাদোহিতে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।
পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবেলা দল চেইনস বাহিনী ও ক্রেন ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় সড়ক ও রেললাইন থেকে ভেঙে পড়া গাছ সরাচ্ছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা নরেন্দ্র শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, আক্রান্ত এলাকায় জরুরি দল মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়িঘর, ফসল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কেন এই ঝড় এত ভয়াবহ
মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত বর্ষার আগের মৌসুমে উত্তর ভারতে এই ধরনের ঝড় সাধারণ ব্যাপার। তবে এবারের ঝড়ের তীব্রতা ও ব্যাপকতা ছিল অস্বাভাবিক। একই দিনে রাজ্যের এতগুলো জেলায় একসঙ্গে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি আগে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
উদ্ধারকাজ চলছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, এএনআই, পিটিআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!