বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বৈঠকটি 'ভালো' হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রশ্নে দুই পরাশক্তি একমত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে চীনের বাজারে মার্কিন ব্যবসার প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথ খোঁজা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'দুই পক্ষ একমত হয়েছে যে জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি অবশ্যই উন্মুক্ত থাকতে হবে।'
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন এবং মার্কিন নৌ অবরোধের বিরোধী বেইজিং। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে হরমুজ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সম্মতি কূটনৈতিকভাবে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগের দিন বুধবার (১৩ মে) দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনা ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেং এবং মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হে ইয়ংকিয়ান জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে 'আন্তরিক, গভীর ও গঠনমূলক' মতবিনিময় হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিবৃতিতে মুখপাত্র হে লিফেং বলেন, চীন সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও উভয়পক্ষের স্বার্থের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার তালিকা আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যার তালিকা ছোট করতে এবং স্বাস্থ্যকর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বেইজিং।
এই বৈঠকগুলো এমন এক সময়ে হলো যখন মার্কিন-চীন সম্পর্ক একাধিক ইস্যুতে চাপে রয়েছে। ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা, হরমুজে চীনা জাহাজ চলাচল নিয়ে বিরোধ এবং ইরানি তেল কেনার বিষয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি, এই সব পটভূমিতে ট্রাম্পের বেইজিং সফর ও দুই নেতার বৈঠককে কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
হরমুজ প্রশ্নে দুই দেশের মিল খুঁজে পাওয়া আপাতত একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার যে গভীর বিরোধ দুই দেশের মধ্যে রয়েছে, একটি বৈঠকে তা মিটে যাওয়ার নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!