ভারতের উত্তরপ্রদেশে শক্তিশালী ঝড় ও বৃষ্টিতে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের ভাদোহী, ফতেহপুর এবং বুধাউনসহ পাঁচটি বিভাগে এই বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল বুধবার (১৩ মে) এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রয়াগরাজে ১৭ জন, ভাদোহিতে ১৬ জন, ফতেহপুরে ৯ জন, বদাউন জেলায় ৫ জন এবং প্রতাপগড়ে ৪ জন মারা গেছেন। এছাড়া চন্দৌলি ও কুশীনগরে দুজন করে এবং সোনভদ্র জেলায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কানপুর দেহাত ও দেওরিয়াতেও পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
প্রয়াগরাজ জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে হান্ডিয়া এলাকায়। সেখানে সাতজন মারা যান। ফুলপুরে চারজন, সোরাঁওয়ে তিনজন, মেজায় দুজন এবং সদর এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ গাছচাপা পড়ে, দেয়াল ধসে অথবা বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন। ভাদোহি জেলায় ঝড়ের তাণ্ডব ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।
ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
ভাদোহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কুনওয়ার বীরেন্দ্র কুমার জানান, বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যাওয়া এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ঝড়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ভাদোহী পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, আলাদা আলাদা ঘটনায় সেখানে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
ফতেহপুরে ৯ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১৬ জন আহত হয়েছেন। খাগা তেহসিলে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচজন নারী। সদর তেহসিলে ঘরের দেয়াল ধসে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
এই দুর্যোগের কারণে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু গ্রামে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে উপড়ে পড়া গাছের কারণে। কৃষিক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গম ও সবজির খেতে পানি জমে ফসল নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের কারণে প্রাণহানির পাশাপাশি গবাদি পশু ও ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমআর/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!