শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প।
চীনে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পণা অনুযায়ী চীনে পৌঁছেছেন। বুধবার (১৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭:৫০ মিনিটে তাকে বহনকারী রাষ্ট্রীয় বিমান বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। এরই সাথে দীর্ঘ ৯ বছর পর চীনে গেলেন কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। ফলে গোটা বিশ্বের মানুষ এখন মুখিয়ে আছেন এই বৈঠকের প্রতি। 

দুই দিনব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আলোচনায় ইরান যুদ্ধ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এ ছাড়াও তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে। মূলত বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার এই সময়ে দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেব্তৃদ্বয়ের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
 
ওয়াশিংটন ত্যাগের প্রাক্কালে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরানের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানের জ্বালানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে ট্রাম্প ইরানের বিষয়ে চীনের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল হতে চান না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। 
 
তিনি বলেন, ইরানের বিষয়ে তাদের কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এবং শান্তিপূর্ণভাবে হোক বা অন্যভাবে, যুক্তরাষ্ট্র এই লড়াইয়ে জয়ী হবে। তা সত্ত্বেও তিনি শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, চীন এখন পর্যন্ত এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে ভালো ভূমিকা পালন করেছে।
 
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছেন, মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়টি হবে তার আলোচনার প্রথম দাবি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সফরে তার সঙ্গে একদল প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নিয়ে এসেছেন, যার মধ্যে রয়েছেন এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, টেসলার ইলন মাস্ক এবং অ্যাপলের সিইও টিম কুক।