ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির নতুন মোড়, তেহরানের হুঁশিয়ারি, আমেরিকা, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধ, আলোচনা, তেল, জ্বালানি, অর্থনীতি, এশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপািইন, পেসো, রুপিয়াহ, ট্রাম্প, ডেনাল্ড ট্রাম্প, বাকের গালিবাফ, ইসমাইল বাগাই,
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির নতুন মোড়, তেহরানের হুঁশিয়ারি।   ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি এখন টিকে থাকার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি সেটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র অযৌক্তিক দাবি তুলে ধরছে। একই সঙ্গে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে এবং সেই জবাবে যুক্তরাষ্ট্র অবাক হবে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টারি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আবার হামলা চালালে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিষয়টি পার্লামেন্টে পর্যালোচনা করা হবে।

এশীয় অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়ছে:

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা এবং তেলের উচ্চমূল্যের প্রভাবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রাবাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহ ডলারের বিপরীতে ১৭ হাজার ৫০০ এর নিচে নেমে গেছে, যা বড় ধরনের পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফিলিপাইনের পেসোও টানা তৃতীয় দিনের মতো দুর্বল হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির মুদ্রার মান প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ তেলের দামের কারণে জ্বালানিনির্ভর এশীয় অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে।

সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বিপজ্জনক দিকে এগোচ্ছে। যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা বাড়ছে, তখন তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনে যে প্রভাব পড়ছে:

অন্যদিকে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনেও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। রাজধানী তেহরান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে দেশটির আমদানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুদ্ধের মানসিক চাপও যুক্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।

ইরানের অন্যতম বড় ইস্পাত কোম্পানিতে হামলার ফলে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, গাড়ি শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সংকট বাড়ছে। এর প্রভাব দ্রুত পণ্যের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

তবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের জনগণের মধ্যে প্রতিরোধ ও ঐক্যের মনোভাব দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেহরানের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও সংহতি কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা