কিউবায় যেকোন সময় হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, কিউবা, যুক্তরাষ্ট্র, হামলা, কিউবার উপরে হামলা, ডেনাল্ড ট্রাম্প, ভেনেজুয়েলা, তেল, জ্বালানি, ইরান, আরব আমিরাত,
কিউবায় যেকোন সময় হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।   ছবি: সংগৃহীত

ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ কিউবা যে কোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে পড়তে পারে। এধরনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে। এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার সরকারের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ঐতিহাসিকভাবে ১৯৬২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছিল। সেই সময় থেকেই কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি কোনো ধরনের হামলা হয়, তাহলে ১৯৬২ সালের পর এটি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাতের দিকে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত কয়েক মাসে কিউবার ওপর নজরদারি বিমান পরিচালনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে, যা কিউবা সরকার তীব্রভাবে সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে সাধারণ জনগণের ওপর ‘সামগ্রিক শাস্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

অন্যদিকে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা দাবি করেছেন, ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন কিউবায় হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই।

তবে এর বিপরীতে ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ কিউবার কাছে মোতায়েন করা হতে পারে। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, এমন পদক্ষেপ কিউবাকে চাপের মুখে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আগে কিউবা ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের আলোচনা জোরালো হয়েছিল, তবে পরে মনোযোগ সরে যাওয়ায় তা আর এগোয়নি।

সব মিলিয়ে কিউবা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আবারও কঠোর হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র: এক্সিওস