নিজ দলের এমপিরাই স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ দিচ্ছে, স্টারমার, আমেরিকার প্রধানমন্ত্রী, লেবারপার্টি, পদত্যাগ, স্টারমারের পদত্যাগ, কংগ্রেস, ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী,
নিজ দলের এমপিরাই স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ দিচ্ছে।   ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর দলীয় চাপ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরেই এখন তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। দলটির একাধিক এমপি ও মন্ত্রী চাইছেন, স্টারমার যেন নির্দিষ্ট করে তার পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনও এই অবস্থানের সঙ্গে একমত। এতে সরকারের ভেতরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) ডাউনিং স্ট্রিট থেকে ছয়জন পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি পদত্যাগ করেন বা সরিয়ে দেওয়া হন। তাদের কেউ সরাসরি পদত্যাগ করেন, আবার কেউ স্টারমারের বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানান।

মঙ্গলবার (১২ মে) ভোর পর্যন্ত লেবার পার্টির অন্তত ৭২ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ অথবা সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন। একই দিনে মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সহকারী জো মরিস। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন জনগণের আস্থা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এছাড়া আরও কয়েকজন সহকারী পদত্যাগ করেছেন এবং কেউ কেউ সরাসরি নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

একাধিক এমপি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থা কমে গেছে এবং পরিবর্তন ছাড়া পরিস্থিতি উন্নত হবে না।

স্টারমার অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করছেন না। এক ভাষণে তিনি দাবি করেন, তিনি সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করবেন এবং সরকার বড় কিছু সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে নিয়েছে, যদিও কিছু ভুল হয়েছে। তবে তার এই বক্তব্যের পর দলীয় চাপ আরও বেড়েছে।

লেবার পার্টির ভেতরে এখন দুই ভাগ দেখা যাচ্ছে। এক পক্ষ দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে, আরেক পক্ষ সময় দিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর পক্ষে।

দলের ডান ও বাম উভয় অংশ থেকেই চাপ আসছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা কয়েকজন নেতার সমর্থকরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ক্ষতির পর থেকেই এই সংকট ঘনীভূত হয়। ইংল্যান্ডজুড়ে দলটি বিপুল সংখ্যক কাউন্সিলর হারায়। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় লেবারের ভোটব্যাংক আরও দুর্বল হয়েছে।

ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডেও দলটির ফল ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় নেমে এসেছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।

কিছু এমপি বলছেন, নতুন নেতৃত্ব ছাড়া দল আবার জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না। তাদের মতে, স্টারমারের উচিত দ্রুত একটি স্পষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তন সম্ভব হয়।

অন্যদিকে, স্টারমারের সমর্থকরা বলছেন, এখনই পরিবর্তনের চাপ সৃষ্টি করলে সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে।

দলের ভেতরে সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। কিছু এমপি চাইছেন, জনপ্রিয় আঞ্চলিক নেতা অ্যান্ডি বার্নহামকে সামনে আনা হোক। তবে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের ভেতরেই মতবিরোধ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে। একদিকে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি বাড়ছে, অন্যদিকে তিনি ক্ষমতায় থাকার অঙ্গীকার করছেন। ফলে দলটি এখন এক গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি