ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই।   ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে একই দিনে ইউরোপ ও চীন দুই দিকেই কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই। হরমুজ প্রণালিতে ইউরোপীয় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের খবর এবং ট্রাম্পের আসন্ন বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে তেহরানের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

সোমবার (১১ মে) কাতারভিত্তিক বার্তা সংস্থা আল-জাজিরা এমন তথ্য জানিয়েছে। 

ইউরোপীয় দেশগুলো জ্বালানি সংকট কমাতে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কথা ভাবছে বলে যে খবর বেরিয়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাগেই বলেন, ইরান ইউরোপিয়ানদের কাছে স্পষ্ট করে বলেছে যাতে তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি দাম্ভিকতার কাছে নতি স্বীকার না করে। তিনি বলেন, 'তাদের এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা উচিত যা তাদের নিজেদের স্বার্থকেই ক্ষুণ্ণ করবে।'

বাগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সরাসরি আগ্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, এই যুদ্ধ শুধু অনৈতিকই নয়, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও সম্পূর্ণ বেআইনি। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করেছে, ইউরোপীয় দেশগুলো যেন এই বিষয়ে বিভ্রান্ত হয়ে জড়িয়ে না পড়ে।

হরমুজ বা পারস্য উপসাগরে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি আরও জটিল করবে এবং জ্বালানির দাম আরও বাড়াবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বাগেই। তিনি বলেন, 'বিশ্বের দেশগুলো দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবে, এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।'

চীন প্রসঙ্গে বাগেই বলেন, ট্রাম্পের বেইজিং সফর ওয়াশিংটনের নিজস্ব বিষয়, তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি গত সপ্তাহেই বেইজিং সফর করে তেহরানের অবস্থান চীনা নেতৃত্বকে সরাসরি জানিয়ে এসেছেন।

বাগেই বলেন, চীন ভালো করেই জানে এই যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী মার্কিন একতরফা পদক্ষেপেরই ধারাবাহিকতা। তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং সুদূর প্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চীনের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই চীন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো বেপরোয়া বা বেআইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেওয়ার সুযোগ ব্যবহার করবে — কারণ এই পদক্ষেপগুলো শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকেও ক্ষুণ্ণ করছে।

বাগেইর এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে, তেহরান একদিকে ইউরোপকে মার্কিন প্রভাব থেকে দূরে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে চীনকে কৌশলগত মিত্র হিসেবে পাশে রাখার চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের বেইজিং সফরের আগে ইরান-চীনের এই ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে।