সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।   ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার একটি পুরোনো গবেষণা রিঅ্যাক্টর থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে সফল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে ভেনেজুয়েলা থেকে সাড়ে ১৩ কেজি ইউরেনিয়াম অপসারণ করা হয়। 

শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ এক বিবৃতিতে এই সফলতার কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার সাথে এক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের একটি বিশেষ স্থাপনায় রাখা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সির তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার সাথে স্থল ও সমুদ্রপথে এই বিশাল স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরেনিয়াম ইস্যুতে ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যে ভেনেজুয়েলার এই ঘটনাটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় কৌশলগত বিজয়। চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার মার্কিন অভিযানের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে এক নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়। 

এরপর থেকেই কারাকাসে মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু হওয়া এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর মতো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রশাসক ব্রান্ডন উইলিয়ামস জানিয়েছেন যে এই ইউরেনিয়াম অপসারণের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠন ও নিরাপত্তার বিষয়ে একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই হামলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে বহু শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটে যার প্রতিবাদে ইরান ও তার মিত্ররা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। 

যদিও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত এপ্রিল মাসে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ এবং আলোচনার অচলাবস্থার কারণে এই অঞ্চলটি এখনও চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। ভেনেজুয়েলার ইউরেনিয়াম সরাতে পারলেও ইরানের প্রায় ৪০৮ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এখন ট্রাম্পের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।