হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, দেশটির আঞ্চলিক জলসীমায় একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
বৃহস্পতিবার (৭ মে ) এক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে কেশম দ্বীপসহ বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সহযোগিতা ছিল বলেও দাবি করা হয়, যদিও কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমেরিকার আগ্রাসী, সন্ত্রাসী ও দস্যু বাহিনী যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।”
ইরান আরও দাবি করেছে, তাদের পাল্টা হামলায় মার্কিন জাহাজগুলো গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, “অপরাধী ও আগ্রাসী আমেরিকা এবং তাদের মিত্ররা জেনে রাখুক, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান অতীতের মতোই যেকোনো আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেবে।”
অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং উচ্চ বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের উসকানিমূলক হামলা প্রতিহত করেছে এবং আত্মরক্ষামূলক পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, মার্কিন কোনো স্থাপনা বা যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। একই সঙ্গে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে চায় না, তবে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বন্দর অবরোধের বিরুদ্ধে এটি তেহরানের প্রথম সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়া। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক জাহাজ আটক করেছে এবং আরও কয়েকটি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস এবং দক্ষিণ উপকূলীয় শহর মিনাবসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ইরানের হামলার মুখে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ ওমান উপসাগরের দিকে সরে যায়।
এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র: আল- জাজিরা
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!