তুরষ্কের তৈরি ৬,০০০ কিলোমিটার পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ইলদিরিমহান
তুরষ্কের তৈরি ম্যাক ২৫ গতিসম্পন্ন এবং ৬,০০০ কিলোমিটার পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ইলদিরিমহান।   ছবি: সংগৃহীত

ইস্তাম্বুলের 'সাহা ২০২৬' প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে তুরস্ক যখন তাদের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) 'ইলদিরিমহান' উন্মোচন করল, ঠিক তখনই বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরে সতর্কঘণ্টা বেজে উঠেছে।  ৯ থেকে ২৫ ম্যাক গতিসম্পন্ন এবং ৬,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কেবল তুরস্কের সক্ষমতা জানান দেয়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সামরিক ভারসাম্য ওলটপালট করে দেওয়ার আভাস দিচ্ছে।

ওয়াশিংটন ও ন্যাটোর উদ্বেগ
তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এমন শক্তিশালী আইসিবিএম তৈরি করায় ওয়াশিংটনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পেন্টাগনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, 'তুরস্কের এই নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রশংসনীয় হলেও, ৬,০০০ কিমি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা পর্যালোচনার দাবি রাখে।' বিশেষ করে রাশিয়ার সাথে তুরস্কের কৌশলগত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই মিসাইলটি ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আঞ্চলিক শক্তিসমূহের প্রতিক্রিয়া
তুরস্কের এই সামরিক প্রদর্শনীতে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে গ্রিস এবং মিশরের মধ্যে। এথেন্সের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আনকারার এই 'লং-রেঞ্জ' সক্ষমতা সরাসরি এই অঞ্চলের আকাশসীমার নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ঘনিষ্ঠ কিছু সংবাদমাধ্যম তুরস্কের এই ক্ষেপণাস্ত্রকে 'আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের জন্য বড় পরিবর্তন' হিসেবে বর্ণনা করেছে।

লিকুইড নাইট্রোজেন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা 'ইলদিরিমহান'-এ লিকুইড নাইট্রোজেন টেট্রোক্সাইড ব্যবহারের বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। যদিও এটি জ্বালানি হিসেবে কিছুটা জটিল, তবে এর শক্তি এবং শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি গতির সক্ষমতা বিশ্বের যেকোনো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (যেমন প্যাট্রিয়ট বা এস-৪০০) ফাঁকি দিতে সক্ষম। ডিফেন্স ইনটেলিজেন্সের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তুরস্ক এখন কেবল ড্রোন শক্তিতে সীমাবদ্ধ নেই, তারা এখন সরাসরি বৈশ্বিক পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর সমান্তরালে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সাহা ২০২৬: বাণিজ্যের আড়ালে শক্তির বার্তা
'সাহা ইস্তাম্বুল' আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকলেও সবার চোখ ছিল ইলদিরিমহানের ওপর। এটি এখন স্পষ্ট যে, তুরস্ক কেবল নিজেদের অস্ত্র নিজেরাই তৈরি করছে না, বরং তারা মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার উদীয়মান দেশগুলোর কাছে এই প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে একটি নতুন প্রতিরক্ষা ব্লক তৈরির চেষ্টা করছে।