হামলার শিকার টালিগঞ্জ তৃণমূল কার্যালয়।
হামলার শিকার টালিগঞ্জ তৃণমূল কার্যালয়।   ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে চরম অস্থিরতা ও সহিংসতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খবর অনুযায়ী, ভোট পরবর্তী এই হানাহানিতে এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক কর্মীই নয়, দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। পুলিশের টহলবাহিনীর ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় তিন পুলিশ কর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুই সেনা সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভোট গণনার পর্ব শেষ হওয়ার পর থেকে রাজ্যজুড়ে সহিংসতার এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে ফল প্রকাশের পরপরই উত্তর ২৪ পরগনা ও হাওড়াসহ বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পূর্ব বর্ধমানে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে ৪৫ বছর বয়সী তৃণমূল কর্মী আবির শেখ নিহত হন। নিহতের আত্মীয় মহসিনা বেগম অভিযোগ করেন, আবির নিজের বাড়িতে ফেরার পথেই বিজেপি সমর্থকদের হামলার শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

একই দিনে হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুরেও ঘটে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ড। সেখানে যাদব বর নামের ৪৮ বছর বয়সী এক বিজেপি সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সোমবার গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে নির্মমভাবে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পুলিশ অভিযুক্তদের সন্ধানে অভিযান শুরু করেছে।

কলকাতার নিউ টাউন এলাকাতেও মিছিলে হামলা চালিয়ে এক বিজেপি কর্মীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম মধু মণ্ডল। স্বজনদের দাবি, মঙ্গলবার বিজেপির বিজয় মিছিল চলাকালীন তৃণমূল কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় এবং মধুর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার নাজাত থানার সারাবেড়িয়া এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে যখন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে টহল দিচ্ছিল, তখন অন্ধকারে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে নাজাত থানার আইসি ভারত পুরোকাইত, পুলিশ কর্মকর্তা ভাস্কর গোস্বামী ও এক নারী পুলিশ অফিসারসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মিনাখা পল্লি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মধ্যে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই নজিরবিহীন হামলার পর পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।