ফিলিপাইনের অন্যতম সক্রিয় মেয়ন আগ্নেয়গিরি থেকে নতুন করে লাভা উদগীরণ ও ছাই ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শনিবার (২ মে) সন্ধ্যার দিকে আগ্নেয়গিরির দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালে জমে থাকা লাভার বিশাল একটি স্তর ধসে পড়লে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর ফলে সৃষ্টি হওয়া উত্তপ্ত পাথর ও গ্যাসের প্রবল প্রবাহ নিচের দিকে নেমে আসায় আশপাশের অন্তত ৩শ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
সোমবারও (৫ মে) আগ্নেয়গিরির এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ছাই ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পবিদ্যা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তেরেসিতো বাকোলকল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরিতে এখন পর্যন্ত বড় কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে কয়েক দফায় অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ধসে পড়া লাভার কারণে সৃষ্ট ঘন ছাই তিনটি শহরের মোট ৮৭টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। ছাইয়ের কারণে ওই সব এলাকায় দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
আগ্নেয়গিরির পাদদেশে অবস্থিত কামালিগ শহরের মেয়র ক্যালয় বালদো পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, মহাসড়কে ছাইয়ের কারণে সামনের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে ইতোমধ্যে চারটি মহিষ ও একটি গরু মারা গেছে। ছাইয়ের প্রভাবে শহরের সবজির খামারগুলোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বর্তমানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
মেয়ন আগ্নেয়গিরিটি এর নিখুঁত শঙ্কু আকৃতির জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও এটি ফিলিপাইনের সবচেয়ে সক্রিয় ২৪টি আগ্নেয়গিরির একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৪৬২ মিটার উচ্চতার এই পাহাড়টি থেকে প্রায়ই প্রাণঘাতী পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ ও পাথর গড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। জানুয়ারি মাস থেকেই এখানে ধারাবাহিক অগ্ন্যুৎপাত ও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হলেও মেয়ন থেকে বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপদগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে এবং তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আলবাই প্রদেশের ৮ হাজার জনসংখ্যার শহর কামালিগ এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আগ্নেয়গিরির আশপাশে জনসাধারণের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন জানমালের ক্ষতি কমাতে তারা সব ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!