আকরিক লোহা।
আকরিক লোহা।   ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের প্রভাব কমিয়ে নিজস্ব মুদ্রা ইউয়ানকে এগিয়ে নিতে চায় চীন। সে লক্ষ্যে এবার আকরিক লোহার বাণিজ্যে বড় সাফল্য অর্জন করেছে দেশটি। বিশ্বের বৃহত্তম মাইনিং কোম্পানি অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক বিএইচপির সঙ্গে সাত মাসব্যাপী বিরোধের পর এই সাফল্য পেয়েছে চীন। এতদিন পর্যন্ত বিএইচপি থেকে চীনে আসা সব আকরিক লোহা মার্কিন ডলারে মূল্যায়িত হলেও ভবিষ্যতে এর একটি অংশ ইউয়ানে বিক্রি করা হবে।

এই অগ্রগতি চীনের দীর্ঘদিনের কৌশলেরই অংশ। তারা অন্যান্য দেশের সঙ্গে পণ্য আমদানির ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

তেল বাণিজ্যেও ইউয়ানের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে চীনা মুদ্রায় ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, এই ধরনের ঋণ গ্রহণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

লন্ডনের ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্প সুদের কারণে গোল্ডম্যান স্যাক্সের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক চীনের অফশোর ঋণ বাজারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনটি বিনিয়োগকারী ও কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা কমানোর প্রচেষ্টারও প্রতিফলন।

আকরিক লোহার খাতে যা ঘটেছে, তা মূলত পণ্যবাজারে চলমান বৃহত্তর পরিবর্তনের একটি ক্ষুদ্র উদাহরণ। দীর্ঘদিন ধরে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় পণ্যভোক্তা দেশ হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ পণ্যের বাণিজ্য ডলারে হয়ে আসছিল।

এই পরিবর্তনের পেছনে কাজ করছে চীনা সরকারের নতুন প্রতিষ্ঠান চায়না মিনারেল রিসোর্সেস গ্রুপ (সিএমআরজি)। বিএইচপি তাদের আকরিক লোহা বিভাগের সঙ্গে চীনা ইস্পাত কারখানাগুলোর সরাসরি বিক্রয় চুক্তি বজায় রাখতে অনড় ছিল। এর ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থায় সিএমআরজি ধীরে ধীরে চাপ বাড়ায়, যার মধ্যে বিএইচপির কিছু পণ্য নিষিদ্ধ করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গত এপ্রিলের শুরুতে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বেইজিংয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএইচপির বিদায়ী প্রধান নির্বাহী মাইক হেনরি এবং তার উত্তরসূরি ব্র্যান্ডন ক্রেইগ । এই বৈঠকের ফল হিসেবে একটি নতুন বিক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে চীনের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং সামান্য মূল্যছাড়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চীন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এসএন্ডপি গ্লোবালের অংশ প্ল্যাটস সূচকের পরিবর্তে নিজেদের ‘বেইজিং আয়রন অর পোর্ট স্পট প্রাইস ইনডেক্স’ ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছিল। বিএইচপি এই চীনা সূচক ব্যবহারে সম্মতি দেয়ার পাশাপাশি তাদের সরবরাহকৃত আকরিকে ১ দশমিক ৮ শতাংশ ছাড়ও প্রদান করেছে। এই ছাড়কে চীনের ইস্পাত কারখানাগুলোর জন্য অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।