ইভিএমে বিজেপির প্রতীকের ওপর টেপ।
ইভিএমে বিজেপির প্রতীকের ওপর টেপ।   ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএম কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। বিতর্কের মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাতে স্ট্রংরুম পরিদর্শনে যান, যেখানে ইভিএম সংরক্ষণ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, খুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের ভেতরে থাকা সাতটি স্ট্রংরুম ভোটগ্রহণ শেষে যথাযথভাবে সিল করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ভোরের দিকে সম্পন্ন হয় এবং সর্বশেষ স্ট্রংরুমটি ভোর প্রায় ৫টা ১৫ মিনিটে সুরক্ষিত করা হয়। ইসিআই দাবি করেছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট এবং পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া মূল ইভিএমের বাইরে পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের জন্য আলাদা স্ট্রংরুম রাখা হয়েছে। সেখানে ভোটকর্মীদের ব্যালট ও ইলেকট্রনিকভাবে প্রেরিত পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণ করা হয়েছে। কমিশন জানায়, এসব কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল এবং ইমেইলের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হয়।

তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে—দলীয় প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে ব্যালট বক্স খোলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এটি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে সংঘটিত বড় ধরনের নির্বাচনী জালিয়াতি। এই অভিযোগ সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিতর্কের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাই স্কুলে অবস্থিত ইভিএম স্ট্রংরুমে উপস্থিত হন। এদিকে নির্বাচন কমিশন জানায়, স্ট্রংরুমগুলো তালাবদ্ধ ও নিরাপদ অবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সামনে প্রদর্শন করা হয়েছে। এ সময় তৃণমূলের শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষসহ বিজেপির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ৪ মে ভোট গণনাকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রশ্ন উঠেছে-পশ্চিমবঙ্গে কি ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে, নাকি আবারও ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল?

নতুন একাধিক জরিপে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। জনমত জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ‘টুডেজ চাণক্য’ তাদের বিশ্লেষণে বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি প্রায় ১৯২টি আসন পেতে পারে, যেখানে তৃণমূল জোটের আসন নেমে আসতে পারে প্রায় ১০০-এর ঘরে। তবে অন্য জরিপে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ‘পিপলস পালস’ ও ‘জনমত’ সংস্থার পূর্বাভাসে তৃণমূল কংগ্রেসকেই এগিয়ে রাখা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। যদিও বিভিন্ন জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে, তবু বেশিরভাগ বিশ্লেষণে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিতই স্পষ্ট।

ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এখন সব নজর ৪ মে ভোট গণনার দিকে—সেখানেই স্পষ্ট হবে অভিযোগের প্রভাব এবং চূড়ান্ত ফলাফল।