তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)।
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম’ ।   ছবি: সংগৃহীত

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্তের পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)।

প্রথম নির্বাচনেই অভাবনীয় সাফল্য পেতে যাচ্ছে বলে দাবি করছে বিভিন্ন জরিপ সংস্থা। এবারের লড়াইতেই ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেতে পারে থালাপতি বিজয়ের দল। যদি এই জরিপের ফল বাস্তবে মিলে যায়, তাহলে টিভিকে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে ক্ষমতাসীন ডিএমকে ও তাদের জোটকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

তামিল চলচ্চিত্র জগতের সুপারস্টার জোসেফ বিজয়ের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ এবং তার দল টিভিকের আত্মপ্রকাশ ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নির্বাচনের আগে পর্যন্ত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ডিএমকে জোট ও এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের মধ্যে-এমনটাই ধারণা করা হচ্ছিল। তবে বিজয়ের সম্ভাব্য প্রভাব এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃতীয় একটি শক্তিশালী মাত্রা যোগ করেছে।

নির্বাচনী মাঠের এই নাটকীয় মোড় কেবল আসন সংখ্যায় নয়, বরং ভোট শেয়ারের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট। জরিপ অনুযায়ী, বিজয়ের দল প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোট পেতে পারে, যা বর্তমান ক্ষমতাসীন ডিএমকে জোটের কাছাকাছি। যদিও ডিএমকের নেতৃত্বাধীন জোটকে অনেক সংস্থা এখনও ১২০ থেকে ১৪০টি আসন দিয়ে এগিয়ে রাখছে। তবে বিজয়ের দলের এই আকস্মিক উত্থান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সমীকরণ বদলে দিয়েছে।

তামিল রাজনীতির ইতিহাসে এর আগে অনেক অভিনেতা রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন, কিন্তু বিজয়ের মতো এত সাড়া খুব কমই দেখা গেছে। প্রথম নির্বাচনেই এমন জনসমর্থনের পূর্বাভাস বিরল। বিশেষ করে যুবসমাজের একটি বড় অংশ এবং প্রচলিত রাজনীতির বাইরে থাকা ভোটাররা বিজয়ের ‘টিভিকে’র দিকে ঝুঁকেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই পূর্বাভাস নিয়ে কিছুটা সংশয়ও রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যদি টিভিকের ভোটের হার সামান্য ৩ থেকে ৫ শতাংশও কমে যায়, তবে আসন সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে ৩০ থেকে ৪০-এ নেমে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডিএমকে জোট বা এআইএডিএমকে জোটের যেকোনো একটি সরকার গঠনে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যাবে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৮২ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগামী সোমবার (৪ মে) ভোট গণনার পর চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে।