‘হার্ট অ্যাটাক’ ঘটাবে এমন অস্ত্র আনার দাবি ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের।
‘হার্ট অ্যাটাক’ ঘটাবে এমন অস্ত্র আনার দাবি ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের।   ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান খুব শিগগিরই এমন একটি অত্যাধুনিক অস্ত্র উন্মোচন করতে যাচ্ছে, যা দেখে শত্রুপক্ষ রীতিমতো ‘হার্ট অ্যাটাক’ করবে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক উসকানি ও আগ্রাসনের মাধ্যমে শত্রুরা দ্রুত ফল পাওয়ার যে আশা করেছিল, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক কৌশল এখন বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক একাডেমিতে হাস্যরসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ইরানি আরও বলেন, ইরান এখন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত।

নৌবাহিনী প্রধান তার বক্তব্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, ওই রণতরীতে অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তার মতে, এ হামলার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মার্কিন বাহিনী ওই রণতরী থেকে কোনো যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন বা আকাশ অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি।

তিনি আরও দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার পর ইরান মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০ বার পাল্টা আঘাত হেনেছে।

ইরানি কমান্ডার জানান, পাল্টা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এখন ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য এখন ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেও বর্তমানে সেখানে অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানি জাহাজ জব্দ ও অবরোধের নিন্দা জানিয়ে শাহরাম ইরানি একে ‘জলদস্যুতা’ ও ‘জিম্মি করা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও খারাপ আচরণ করছে।

পরিশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শত্রুরা যদি আরও কাছাকাছি আসার চেষ্টা করে, তবে ইরান কোনো বিলম্ব ছাড়াই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী শহীদদের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ‘রক্তের শেষ বিন্দু’ পর্যন্ত প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।