‘ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতি না হোক’
হিমন্ত বিশ্বশর্মা।   ছবি: সংগৃহীত

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি প্রতিদিন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন—ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক যেন উন্নত না হয়।

হিমন্ত বিশ্বশর্মার দাবি, দুদেশের সম্পর্ক যখন বন্ধুত্বপূর্ণ হয়, তখন সীমান্তে নজরদারি শিথিল হয়ে যায়, যা আসামের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তার ভাষায়, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ভালো না থাকলেই আসামের জন্য ভালো।’

সাক্ষাৎকারে তিনি কথিত ‘জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো’ প্রসঙ্গেও খোলামেলা কথা বলেন। তার দাবি, অনেক সময় সীমান্তে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে লোকজন ঠেলে পাঠানো হয়। যদিও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বর্তমান নাম বিজিবি, তিনি পুরোনো নাম ‘বিডিআর’ ব্যবহার করেন।

এমন মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা মিলছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই ইঙ্গিতই দেয়।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ‘যখন বিএসএফ আর বিডিআর করমর্দন করতে শুরু করে, তখন তা আসামের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যায়।’

এই মন্তব্যে সাক্ষাৎকারগ্রহীতাও বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এ দিকে ‘জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো’ নিয়ে তার বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, ১৯৫০ সালের অভিবাসন আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে এমনভাবে কাউকে ফেরত পাঠানো আইনসম্মত নয়।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিশ্লেষক শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন, সীমান্ত সমস্যা দুই দেশের যৌথ সমাধানের বিষয়, বৈরিতা বাড়িয়ে এর সমাধান সম্ভব নয়।

অন্যদিকে সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, হিমন্ত নতুন কিছু বলেননি, বরং দীর্ঘদিনের একটি বাস্তবতা প্রকাশ্যে এনেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য কূটনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সূত্র: বিবিসি বাংলা