গাজায় গণবিয়ে, যুদ্ধের ছায়ায় ১৫০ দম্পতির নতুন জীবনের স্বপ্ন
গাজার দেইর আল-বালাহর আল-আকসা হাসপাতালের কাছে এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়।   ছবি: আল-জাজিরা

যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্য গাজায় ১৫০ ফিলিস্তিনি জুটির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণবিয়ে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) দেইর আল-বালাহর আল-আকসা হাসপাতালের কাছে একটি দাতব্য সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও আশা, ভালোবাসা ও টিকে থাকার প্রতীক হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে নবদম্পতি, তাঁদের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। ফিলিস্তিনি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আনন্দ-উৎসব ও পারস্পরিক সংহতিতে মুখর ছিল পুরো আয়োজন।

আয়োজকরা বলছেন, চলমান সংকটের মধ্যেও এই আয়োজন ফিলিস্তিনি জনগণের অদম্য মনোবল ও জীবনের প্রতি গভীর অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। গণবিয়ের এ আয়োজন শুধু ১৫০ জুটির নতুন জীবনের সূচনা নয়, বরং তা শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষারও প্রতীক।

আয়োজনে অংশ নেওয়া পরিবারগুলো বলছে, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিজেদের ভূমি, পরিচয় ও স্বপ্নের সঙ্গে তাদের বন্ধন অটুট। তবে আনন্দঘন এই আয়োজনের দিনই নেমে আসে শোক।

এর আগে দিনের শুরুতে চলমান সংঘাতে ১৮ বছর বয়সী কনে হালা দারবিশ গুলিতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যু গণবিয়ের আনন্দকে ম্লান করে দেয় এবং পুরো সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের জন্ম দেয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হালার মৃত্যু চলমান সংঘাতের নির্মম বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। যে দিনটি ভালোবাসা ও মিলনের উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেই দিনই এক তরুণীর প্রাণহানি জীবনযুদ্ধের অনিশ্চয়তাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর অনেকে বলেন, হালার স্মৃতি বুকে নিয়েই তাঁরা উদ্‌যাপন করেছেন। আনন্দ ও বেদনা এখানে পাশাপাশি অবস্থান করেছে।

তাঁদের মতে, এই শোকই বরং জীবন, ভালোবাসা ও একতার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করেছে।

আয়োজকরা বলছেন, হালা দারবিশের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সহিংসতা ও অবিচারের বিরুদ্ধে আশা ও স্থিতিশীলতার বার্তা আরও জোরালো হয়েছে। গণবিয়ের এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, গভীর সংকটের মধ্যেও ফিলিস্তিনি জনগণ জীবন ও ভালোবাসাকে উদ্‌যাপন করতে এখনও ভুলেনি।

সূত্র: আল জাজিরা/রয়টার্স/আনাদোলু