পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। গ
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। গ   ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। গতকাল শুক্রবার একটি ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি ইসলামাবাদে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আরাগচি এবং তার নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধিদলের আগমনের প্রেক্ষিতে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে।

ইসলামাবাদে অবতরণের পর, আরাগচি ও তার প্রতিনিধিরা সোজা সেরেনা হোটেলে চলে যান, যেখানে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার আলোচনার জন্য শনিবার (২৫ এপ্রিল) পাকিস্তান সফর করবেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি লিখেছেন, ‘আমার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করা এবং আঞ্চলিক ঘটনাগুলো নিয়ে পরামর্শ করা। প্রতিবেশীরাই আমাদের অগ্রাধিকার।’

এদিকে, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দ্বন্দ্বের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার ৪০ দিন পর, ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর পর গত ১১ এপ্রিল প্রথম দফা সংলাপে বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিরা।

১১ এপ্রিলের সংলাপের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, তবে ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও চুক্তি না হওয়ায় উভয় পক্ষই ফিরে যায়।

এবারের দ্বিতীয় দফা সংলাপে ইরানি প্রতিনিধি দলে নেই মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় সংলাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধি দল, তবে এই দলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও থাকছেন না।

এছাড়া, সৈয়দ আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা জানায়, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেলিফোনে কথা হয়েছে। ফোনকলে আমির জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধের শান্তি প্রক্রিয়াকে কাতার পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান ছাড়াও আরও ২ দেশ সফর করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইসলামাবাদে বৈঠকের পর রাশিয়া ও ওমানেও যাবেন তিনি। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য দুই দেশের চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো। শুক্রবার আরাগচি ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ধারাবাহিক টেলিফোন আলাপের পরই ইসলামাবাদের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা আল-জাজিরাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।