ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।   ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “আমরা একটি চমৎকার বৈঠক করেছি। উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। কোনো গোলাগুলি নয়-শুধু যুদ্ধবিরতি। দেখা যাক কী হয়।”

পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, বৈঠকটি খুবই ফলপ্রসূ ছিল এবং যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের সঙ্গে কাজ করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি অদূর ভবিষ্যতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে আপ্যায়ন করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।

বৈঠকে উপস্থিত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। লেইটার বলেন, লেবানন থেকে এই ক্ষতিকর প্রভাব হিজবুল্লাহকে সরানোর লক্ষ্যেই উভয় দেশ কাজ করছে।

এই বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা।

হিজবুল্লাহ ১৯৮২ সালে লেবাননে প্রতিষ্ঠিত একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী। ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। তারা সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিলেও লেবাননের ক্ষমতার কাঠামোয় তাদের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর দুই দিন পর লেবাননে পৃথকভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। প্রায় ৪৫ দিন ধরে চলা এই অভিযানে লেবাননে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন।

পরবর্তীতে ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৭ এপ্রিল। তবে তার আগেই নতুন করে আরও তিন সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলো।

সূত্র: সিএনএন, এনবিসি