ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। যেখানে শাসক অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি-এর মধ্যে বহুল আলোচিত লড়াই জমে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হওয়া ভোট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এরইমধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোয় দেখা যাচ্ছে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নন্দিগ্রাম, দার্জেলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি এবং কুচবিহার-সহ বেশ কয়েকটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অন্তত ৮০টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
২০১১ সালে ৩৫ বছরের সিপিএম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসার পর টানা তিন মেয়াদ ধরে রাজ্য শাসন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবারের নির্বাচন তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫টি আসন জিতে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল, সেখানে বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন।
বিজেপি গত কয়েক বছরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং উন্নয়নের ঘাটতির অভিযোগ তুলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল এই নির্বাচনকে ‘বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের লড়াই’ হিসেবে তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখার অভিযোগ করছে।
নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর)। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে প্রায় ৮৯ লাখ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, যা মোট ভোটারের প্রায় ১১.৬ শতাংশ। এই সংখ্যা ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি, যা শাসক দলের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথম দফায় তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গৌতম দেব (শিলিগুড়ি), উদয়ন গুহ (দিনহাটা), ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর) এবং পবিত্র কর (নন্দীগ্রাম)। অন্যদিকে বিজেপির হয়ে নন্দীগ্রাম থেকে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি দ্বিতীয় দফায় ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানাবেন। এছাড়া বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা) এবং সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর)।
নির্বাচনকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করেছে, যেখানে প্রায় ২.৪ লাখ নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছে বিমান বাহিনীর সদস্যরা।
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশেও এবার কড়াকড়ি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোটারদের নির্ধারিত পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্লিপ সংগ্রহ করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ রাখা হবে এবং ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটার এলাকার মধ্যে আলাদা ক্যাম্প থাকবে।
নির্বাচন কমিশন সতর্ক করেছে, ভোটারদের ভয় দেখানো, বাধা দেওয়া, হামলা করা বা ভোটপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলাচল করতে হবে এবং রাতে মোটরসাইকেল চলাচলে কড়াকড়ি থাকবে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোট গণনা হবে ৪ মে। এই নির্বাচনকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!