মিয়ানমারে স্যানিটারি প্যাডসহ ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সামরিক বাহিনী।
সোমবার (২০ এপ্রিল) একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
তাদের দাবি, বিদ্রোহীরা এসব প্যাড আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসার কাজে এবং জুতার ভেতরে ঘাম ও রক্ত শোষণের জন্য ব্যবহার করছে।
২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। জান্তা সরকার বিদ্রোহীদের দমনে ‘ফোর কাটস’ নামে একটি কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো বিদ্রোহীদের খাদ্য, অর্থ, গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রয়োজনীয় রসদ থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, স্যানিটারি প্যাড নিষিদ্ধ করা এই নিষ্ঠুর নীতিরই অংশ। বিশেষ করে সাগাইং এবং মান্দালয় সংযোগকারী সেতু দিয়ে প্যাড পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ‘স্কিলস ফর হিউম্যানিটি’র প্রতিষ্ঠাতা মেরেডিথ বান জান্তা সরকারের এই যুক্তিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে যারা চিকিৎসা দেন তারা সবাই জানেন, স্যানিটারি প্যাড দিয়ে গুলির ক্ষত বা গভীর জখমের চিকিৎসা সম্ভব নয়। সামরিক বাহিনীর কিছু নারীবিদ্বেষী ও মূর্খ লোক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
প্যাড না পেয়ে নারীরা এখন নোংরা কাপড়, গাছের পাতা বা সংবাদপত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে জরায়ু ও মূত্রনালীর সংক্রমণসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এসব রোগের সঠিক চিকিৎসাও সম্ভব হচ্ছে না।
অধিকারকর্মী থিনজার শুনলেই ইয়ে জানান, স্যানিটারি প্যাডের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে নারীরা ঘর থেকে বের হতে বা রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না। কালোবাজারে কিছু প্যাড পাওয়া গেলেও তার দাম এখন আকাশচুম্বী। এক প্যাকেট প্যাডের দাম তিন হাজার কিয়াট থেকে বেড়ে নয় হাজার কিয়াট হয়েছে, যা একজন সাধারণ শ্রমিকের দৈনিক মজুরির (৭ হাজার ৮০০ কিয়াট) চেয়েও বেশি।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এটি একটি পরিকল্পিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা। তারা মনে করছেন, জান্তা সরকার নারী যোদ্ধাদের মনোবল ভাঙতে এবং বেসামরিক নারীদের নিয়ন্ত্রণ করতেই এই পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। বিশেষ করে উদ্বাস্তু শিবিরের ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষ এখন চরম সংকটে।
স্যানিটারি প্যাড বা ঋতুস্রাব নিয়ে মিয়ানমারের সমাজে এক ধরনের সংস্কার বা ‘ট্যাবু’ থাকায় অনেক নারী এই বিষয়ে মুখ খুলছেন না। তবে স্থানীয় সংগঠনগুলো এরই মধ্যে জাতিসংঘকে বিষয়টি অবহিত করেছে এবং একে মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!