আইইএ-এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল।
আইইএ-এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল।   ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের নতুন একটি সতর্কতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) প্রধান ফাতিহ সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে ইউরোপে ভয়াবহ জেট ফুয়েল সংকট সৃষ্টি হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোর হাতে মাত্র ৬ সপ্তাহের জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে।

আইইএ জানিয়েছে, বিশ্বের মোট জেট ফুয়েল বাণিজ্যের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে। গত ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে ইউরোপে জ্বালানির সংকট আরো গভীর হচ্ছে।

আইইএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনের মধ্যে যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানিকৃত জ্বালানির অন্তত অর্ধেক বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ করা না যায়, তবে ইউরোপের বিমান চলাচল ব্যবস্থা একেবারে অচল হয়ে পড়তে পারে।

আইইএ প্রধান সতর্ক করে বলেন, খুব শিগগিরই বিভিন্ন গন্তব্যের ফ্লাইট বাতিলের খবর আসতে পারে। চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে ইউরোপে জেট ফুয়েলের দাম প্রতি টনে ১ হাজার ৮৩৮ ডলার হয়ে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এদিকে, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে, তবে সর্বোচ্চ আমদানির পরও তা চাহিদার মাত্র অর্ধেক পূরণ করতে পারবে।

যুক্তরাজ্য সরকার ও স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তারা বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে বড় কোনো বিঘ্ন দেখছেন না। তবে তারা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে।

তবে ডাচ এয়ারলাইনস কেএলএম জানিয়েছে, উচ্চ জ্বালানি খরচের কারণে তারা আগামী মাসে ইউরোপের ১৬০টি ফ্লাইট বাতিল করবে। অন্যদিকে ইজিজেট জানিয়েছে, মার্চ মাসে তাদের অতিরিক্ত ২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড লোকসান হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেওয়া হয়, তবে ইউরোপের বড় বিমানবন্দরগুলোতে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে যুক্তরাজ্য, কারণ দেশটি তাদের জেট ফুয়েল চাহিদার ৬০ শতাংশেরও বেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আইইএ এই পরিস্থিতিকে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারপর গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুরোতে অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেখানে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। সেখানে বর্তমানে এই প্রণালিতে দৈনিক চলাচল করছে গড়ে মাত্র ১০ থেকে ১২টি বাণিজ্যিক জাহাজ।