নিজেদের সেরা গোয়েন্দা ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র
‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ মডেলের ড্রোন।   ছবি: বিবিসি বাংলা

পারস্য উপসাগরে প্রায় ২৫ কোটি ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-ফোরসি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত এটিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে স্বীকার করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত ৯ এপ্রিল ড্রোনটি হঠাৎ করেই রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হতে পারে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ না করে ঘটনাটিকে একটি বড় ধরনের বিপত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে ড্রোনটি প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড্ডয়ন করছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এটি দ্রুত নিচে নেমে ১০ হাজার ফুটেরও নিচে চলে আসে। এ সময় ড্রোনটির ট্রান্সপন্ডার থেকে প্রথমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং পরে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় নজরদারি মিশন শেষ করে ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটিতে ফেরার পথে ছিল। কিন্তু যাত্রাপথেই এটি অজানা কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

এমকিউ-ফোরসি ট্রাইটন ড্রোনটি মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম উন্নত ও ব্যয়বহুল সম্পদ। এফ-১৫ই স্ট্রাইক ফাইটার কিংবা এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোনের তুলনায় এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অনেক বেশি উন্নত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এ ধরনের প্রায় ২০টি ড্রোন সক্রিয় রয়েছে। দীর্ঘ সময় বৈরী সামুদ্রিক পরিবেশে নজরদারি চালানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই ড্রোনে রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি রাডার এবং আধুনিক ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর, যা বিশাল সমুদ্র এলাকায় জাহাজের গতিবিধি নিরীক্ষণ করতে পারে।

এদিকে ইরানি সূত্রের দাবি, ড্রোনটি তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা করলে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালেও ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একই ধরনের একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে নামিয়েছিল। সে সময় তেহরান অভিযোগ করেছিল, মার্কিন গোয়েন্দা বিমানটি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে গোপনে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে একাধিক মার্কিন এমকিউ-নাইন রিপার ও ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান নাজুক পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।