১৪ দিনেই নেপালকে বদলে দিলেন বালেন্দ্র শাহ
বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে নেপাল।   ছবি: আল-জাজিরা

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা যাচ্ছে এক নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত। মাত্র ৩৫ বছর বয়সী তরুণ নেতা বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে দেশটিতে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী কিছু উদ্যোগ, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জেন-জি নেতৃত্ব ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে নজর কাড়েন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে ভিআইপি সংস্কৃতি ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ। আগে যেখানে মন্ত্রী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চলাচলের সময় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। রাজধানী কাঠমান্ডু-র ব্যস্ত সড়কে আর বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন না নেতারা। প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশকে তাদের গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ। স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগে নিজের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কয়েকজন নেতার নিয়োগ বাতিল করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের শাসন নিয়ে আস্থা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শিক্ষা খাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে স্কুল ও কলেজে দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতেও নেওয়া হয়েছে জনবান্ধব পদক্ষেপ। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের একটি বড় অংশে বিনামূল্যে সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ‘ব্লু বাস’ নামে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা। এসব বাসে নারীরা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন, যা ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

এছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমানো হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ এই নেতার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা নেপালের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন ধারা তৈরি করেছে। তার স্বচ্ছতা ও দৃঢ় নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে নেপালের এই পরিবর্তনকে একটি সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক মডেল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।