শেষ দিনে নভোচারীদের শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা
৬ মিনিটের নীরবতা, তারপর স্বস্তির বার্তা।   ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তার মুহূর্ত পেরিয়ে অবশেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস–২ অভিযানের চার নভোচারী।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়ন ক্যাপসুলের সফল অবতরণের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর চাঁদের চারপাশে মানুষের প্রথম অভিযাত্রা।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় নভোযানটি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটছিল। ভয়ংকর সেই মুহূর্তে মহাকাশযানটির তাপমাত্রা পৌঁছে যায় প্রায় ২ হাজার ৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। উত্তপ্ত প্লাজমায় ঢেকে যায় পুরো ওরিয়ন ক্যাপসুল। এর ফলে হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে প্রায় ছয় মিনিট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। এ সময় নাসার বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা ছিলেন চরম উদ্বেগে।

শেষ দিনে নভোচারীদের শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা

উদ্বেগ কাটে যখন অভিযানের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের কণ্ঠ ভেসে আসে নিয়ন্ত্রণকক্ষে—“হিউস্টন, যোগাযোগ ঠিক আছে, আমরা আপনাদের স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছি।” তার কণ্ঠ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রণকক্ষ, যেখানে উপস্থিত ছিলেন নভোচারীদের পরিবারের সদস্যরাও।

এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন চারজন নভোচারী—ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার, জেরেমি হ্যানসেন এবং রিড ওয়াইজম্যান। তাদের মধ্যে ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অমার্কিন নভোচারী, যারা চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার ইতিহাস গড়লেন। এই বৈচিত্র্যময় দলটি ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করল।

২০২২ সালে পরিচালিত আর্টেমিস–১ অভিযানের সময় মহাকাশযানের তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থায় ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার ঝুঁকি কমাতে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি পুনঃপ্রবেশপথ নির্ধারণ করা হয়। তবুও উৎকণ্ঠা ছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

শেষ দিনে নভোচারীদের শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা..

নাসার লক্ষ্য ছিল এই মিশনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতির পথ সুগম করা। আর্টেমিস–২ অভিযানের সাফল্য সেই স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।

অভিযানের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে মানুষের ভ্রমণ করা সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে পৌঁছানোর রেকর্ডও গড়েছেন, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো–১৩ মিশনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।