ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।   ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আপাতত স্থগিত রাখার জন্য আদালতের প্রতি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত ও কূটনৈতিক কারণ দেখিয়ে তার আইনজীবীর মাধ্যমে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এই আবেদন দাখিল করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বহুদিন ধরে চলমান এই দুর্নীতি মামলার শুনানি পুনরায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক ব্যস্ততার কারণে অন্তত আগামী দুই সপ্তাহ তিনি আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য থাকার কারণে বিস্তারিত ব্যাখ্যা একটি সিলমোহরযুক্ত খামে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে, যা বিচারক প্যানেল পর্যালোচনা করবে।

এই আবেদনের পর প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের অবস্থান জানাবে এবং এরপর আদালত সিদ্ধান্ত নেবে শুনানি স্থগিত করা হবে কি না। ফলে মামলার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান এই মামলাটি ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি দেশটির প্রথম বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, যিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই ঘুষ, জালিয়াতি এবং আস্থাভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। যদিও তিনি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন।

২০২০ সালে শুরু হওয়া এই বিচার প্রক্রিয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে একাধিকবার বিলম্বিত হয়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার সময়গুলোতে বারবার শুনানির তারিখ পরিবর্তনের আবেদন জানানো হয়, যা আদালত কিছু ক্ষেত্রে মঞ্জুরও করেছে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতির কারণে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে এই মামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলেও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই ধরনের হস্তক্ষেপকে ভালোভাবে নেননি হারজগ, বরং তিনি এটিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার ভবিষ্যৎ শুনানি এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, আর একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ এই মামলাকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্র: প্রেস টিভি