শেখ হাসিনা অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী?
শেখ হাসিনা।   ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনি মর্যাদা নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি প্রশ্ন করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিজেপির সংকল্প পত্র প্রকাশের পর কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সদর দপ্তরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অভিষেক ব্যানার্জী বলেন, আসামে এনআরসি প্রক্রিয়ার সময় বিপুল সংখ্যক হিন্দু বাঙালিকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে টার্গেট করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বাঙালিদের ওপর বিজেপির নিপীড়ন নতুন নয় এবং গত এক বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষীদের ওপর নানা ধরনের হয়রানি চলছে।

তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি শাসিত কিছু রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বলা, নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা বা সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রাখার কারণে মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি কিছু নেতার বক্তব্যে এ ধরনের মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অভিষেক বলেন, এসব বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। তিনি আশা করেছিলেন, বিজেপি নেতারা এ বিষয়ে অন্তত বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চাইবেন।

এ সময় অমিত শাহকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বাংলাকে যদি বাংলাদেশ পরিচালিত করে বলে অভিযোগ করা হয়, তাহলে দিল্লিতে শেখ হাসিনা কেন অবস্থান করছেন? তাকে দেড় বছর ধরে কোন কারণে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে?’

তিনি আরও জানতে চান, শেখ হাসিনার আইনি অবস্থান কী—তিনি অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী।

অভিষেক ব্যানার্জীর এই মন্তব্যের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।