হরমুজ প্রণালি এবার ‘ট্রাম্প প্রণালি’: নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ, হরমুজ প্রণালিকে মজা করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আয়োজিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্বব্যাপী চলমান উত্তেজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসের প্রেক্ষাপটে আসে। তিনি বলেন, "ইরানকে ট্রাম্প প্রণালি— থিতু হোন, আমি বলতে চেয়েছি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।" এরপর তিনি মজা করে ক্ষমা চেয়ে বলেন, "ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলো হয়তো বলবে তিনি ভুল করে এটি বলেছেন, কিন্তু আসলে আমার অভিধানে ভুল বলে কিছু নেই।"
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যকরভাবে অবরোধ করে রাখায় প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ঐতিহাসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের নিজের নাম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিংয়ে ব্যবহার করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গত ডিসেম্বরে হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছিল যে, ওয়াশিংটনের বিখ্যাত কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ রাখা হচ্ছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালেও তিনি রসিকতা করে কেনেডি সেন্টারকে নিজের নামে ডাকার চেষ্টা করেছিলেন। মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তনের চিন্তা তিনি অতীতে প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্পের এই ‘ট্রাম্প প্রণালি’ মন্তব্যও তাঁর সেই পুরনো প্রবণতারই প্রতিফলন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, "ইরান একটি চুক্তির জন্য মিনতি করছে" এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে এসেছে, যদিও তেহরান সরাসরি কোনো আলোচনার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত রাখার মেয়াদ আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং এর বাণিজ্যিক নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ভবিষ্যৎ। ট্রাম্পের এই নামকরণ বিষয়ক রসিকতা যুদ্ধের গম্ভীর পরিস্থিতির মাঝে এক নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: সিএনবিসি
হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রেখে যুক্তরাষ্ট্রকে বেকায়দায় ফেলছে ইরান

ছবি: বিবিসি
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
পারস্য উপসাগর এলাকায় ইরানের হুমকি এবং জাহাজে হামলার আশঙ্কায় এ সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। বিশ্বে মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরবরাহেও এই রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ পরিস্থিতি কাটাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং তেলবাহী জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় নিরাপদে পার করে দেওয়ার বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের কৌশলগত সুবিধা এখনও অনেক বেশি। এর পেছনে দেশটির অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল—বিশেষ করে ড্রোন ও সমুদ্র মাইন ব্যবহার—এবং ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের জন্য এ প্রণালিতে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতি ইরানের জন্য আর্থিকভাবেও লাভজনক হয়ে উঠছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে নিরাপদে পারাপারের সুযোগ দিতে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হতে পারে এবং এর প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও।
এবার ইরানের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার দাবি করেছেন যে, ইরানের সামরিক বাহিনীকে অনেকাংশে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “তারা বোকা নন, নির্দিষ্ট কিছু দিক থেকে তারা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং তারা চমৎকার আলোচক।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বলি তারা জঘন্য লড়াকু, কিন্তু চমৎকার আলোচক।”
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের সময়সীমা নির্ধারিত চার থেকে ছয় সপ্তাহের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তিনি বলেন, “আমরা ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছি। তারা পরাজিত; তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। এখন তাদের সামনে একটি চুক্তি করার সুযোগ আছে, তবে সেটি তাদের ওপরই নির্ভর করছে।”
প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত গুড়িয়ে দিচ্ছি, ধ্বংস করছি তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি। আমরা তাদের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকে পুরোপুরি নির্মূল করেছি এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ ও ৯০ শতাংশ লঞ্চার ধ্বংস করে দিয়েছি।”
এর আগে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ থামাতে “চুক্তির জন্য ভিক্ষা করছে”। তিনি স্পষ্ট করেছেন, “চুক্তির জন্য তারা ভিক্ষা করছে, আমি নই। সেখানে কী ঘটছে তা যারা দেখেছেন, তারা সবাই জানেন কেন তারা এমনটা করছে।”
যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি জানি না আমরা সেটি করতে পারব কিনা। আমি জানি না আমরা সেটি করতে ইচ্ছুক কি না।”
সূত্র: আল জাজিরা
বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের হুমকি ইরানের

হরমুজ প্রণালির পর এবার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি সমুদ্রপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের হুমকি দিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সতর্ক করে জানিয়েছেন—যদি ইরানের দ্বীপপুঞ্জ বা মূল ভূখণ্ডে কোনো ধরনের স্থল অভিযান পরিচালনার চেষ্টা করা হয়, অথবা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে শত্রুপক্ষের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায়, তাহলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নতুন করে সংঘাতের ফ্রন্ট খুলতে পারে ইরান।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংকীর্ণ জলপথ, যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই পথটি সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপ-এশিয়ার বাণিজ্যিক নৌপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এই প্রণালির গুরুত্ব অনেক। মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্র উপকূলবর্তী তেলক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত প্রায় ১২ শতাংশ তেল এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
যদিও প্রণালিটি ভৌগোলিকভাবে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত, তবুও সেখানে প্রভাব বিস্তার করে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। ফলে প্রণালিতে অবরোধ আরোপের সক্ষমতা ইরানের রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আইআরজিসির ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি
হরমুজের দায়িত্বে থাকা ইরানি নৌ-কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধ কার্যকর রাখার দায়িত্বে থাকা নৌ-কমান্ডার আলিরেজা তাঙসিরি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। বিভিন্ন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে এ তথ্য।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি।
ইরানের সরকার, প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) থেকে এখনও এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এই সংবাদ যদি সঠিক হয়, তাহলে এটি হবে ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্তের সর্বশেষ উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তার নিহতের ঘটনা।
কমান্ডার তাঙসিরি হলেন ইরানের সেইসব মুষ্টিমেয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন, যাকে এর আগেও একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করেছে ইসরায়েল এবং ভাগ্যজোরে প্রতিবারই বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে নৌবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কমান্ডারের পদে উন্নীত হন তাঙসিরি এবং তার প্রধান দায়িত্ব ছিল হরমুজ প্রণালির দেখভাল করা।
জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুবই গুরুত্বপূর্ন। জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারের এক পঞ্চমাংশ পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। এই প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং এ দুই রাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বাণিজ্য জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা করা হচ্ছে। ব্রিটেনের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে এ পর্যন্ত হরমুজে কমপক্ষে ১২টি বিদেশি বাণিজ্য জাহাজ ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।
হামলার আশঙ্কার কারণে অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে চাইছে না; ফলে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও তরল গ্যাসের দাম বাড়ছে এবং বিশ্বের বহু দেশ ইতোমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি, টাইমস অব ইসরায়েল
ইরান আমাকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অবিশ্বাস্য দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের নেতারা অনানুষ্ঠানিকভাবে তাকে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রিপাবলিকান তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা তাদের কথা স্পষ্ট শুনেছি। তারা বলছে, আমরা আপনাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা করতে চাই। আমি বলেছি, না ধন্যবাদ। আমি এটা চাই না।’
একই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চলছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে এতটা জিতেছি যা আগে কেউ দেখেনি। তারা আলোচনা করছে এবং চুক্তি করতে মরিয়া। কিন্তু তারা বলতে ভয় পাচ্ছে, কারণ তাদের ধারণা নিজের দেশের মানুষ তাদের মেরে ফেলবে।’
তবে তেহরান এই আলোচনার দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, ‘আপনার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আপনি নিজেই নিজের সঙ্গে আলোচনা করছেন? আমরা সবসময় বলে আসছি, আমাদের মতো মানুষ আপনাদের সঙ্গে কোনো চুক্তি করবে না। এখনো না। কোনোদিনও না।’
এদিকে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানে একটি ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে। এই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, হিজবুল্লাহসহ প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, তেহরান মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের একটি পাঁচ দফা পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে। এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে যুদ্ধ শেষ হবে ইরানের শর্তে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
১৭ বিলিয়ন ডলারের ‘যুদ্ধকালীন’ সম্পূরক বাজেট আনছে দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ১৭ বিলিয়ন ডলারের একটি ‘যুদ্ধকালীন’ সম্পূরক বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে, পাশাপাশি জ্বালানির ওপর কর ছাড়ের পরিমান বাড়ানোর পরিকল্পনাও নিয়েছে।
সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়ছে এবং পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের কোনো ইঙ্গিত নেই। এ অবস্থায় অর্থনীতির ওপর চাপ সামাল দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী মাসে ২৫ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের একটি সম্পূরক বাজেট প্রণয়ন করা হবে, যা অতিরিক্ত কর রাজস্ব থেকে অর্থায়ন করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে দক্ষিণ কোরিয়ার এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার দাবি আইআরজিসির

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের চলমান অভিযানের ৮২তম ধাপ শুরু করেছে। সংস্থাটি জানায়, এই অভিযান আজ ভোরে শুরু হয়।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই ধাপে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং মৃত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত পারমাণবিক অবকাঠামো-সম্পর্কিত শিল্পগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
চীন সব পক্ষকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে

চীন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সব পক্ষকে ‘অর্থবহ ও আন্তরিক’ শান্তি আলোচনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের উচিত একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা এবং এমন পরিবেশ তৈরি করা, যাতে সত্যিকার অর্থে ফলপ্রসূ ও আন্তরিক শান্তি আলোচনা শুরু করা সম্ভব হয়।
বেইজিং চলমান কোনো আলোচনার বিষয়ে অবগত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি অগ্রাধিকার হলো সক্রিয়ভাবে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া, শান্তির সুযোগ কাজে লাগানো এবং যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগী হওয়া।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বিরোধের ক্ষেত্রে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, দায় স্বীকার করেনি কেউ

তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তুরস্কের আরেক সংবাদমাধ্যম এনটিভি জানিয়েছে, জাহাজটির মালিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠান ‘বেসিকতাস’। তবে এটি সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, ট্যাংকারটি রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে রওনা হয়েছিল।
আবদুল কাদির উরালুগ্লু বলেন, ‘আমাদের ধারণা, জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলাটি আকাশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে নয়, বরং একটি চালকবিহীন নৌযান (আনম্যানড সারফেস ভেহিকল) দিয়ে করা হয়েছে।’
ট্যাংকারটির ওপর হামলা তুরস্কের জলসীমায় হয়েছে কি না, তা মন্ত্রী নির্দিষ্ট করে জানাননি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বসফরাস প্রণালি থেকে ৩০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে এই হামলা হয়েছে।
উরালুগ্লু আরও বলেন, ‘এটি বাইরে থেকে ঘটানো কোনো বিস্ফোরণ বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে এ হামলা করা হয়েছে, যাতে জাহাজটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।’
ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তুর্কি পরিবহনমন্ত্রী।
দায় স্বীকার করেনি কেউ
তুর্কি সংবাদপত্র ‘ইয়েনি শাফাক’ জানায়, এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। কৃষ্ণসাগর দিয়ে সাধারণত জ্বালানি তেল ও শস্যের জাহাজ চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে এমন হামলার ঘটনায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ এখন পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। এ যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা চলছে এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই কৃষ্ণসাগরে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
তবে কৃষ্ণসাগরের এ ঘটনাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সম্ভাব্য হামলার আওতা এখন ভৌগোলিকভাবে আরও ছড়িয়ে পড়ছে। তুরস্ক এই সংঘাত কমাতে শুরু থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আকাশসীমা রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা ও এএফপি
ইরাকে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা, নাগরিকদের দেশ ছাড়ার আহ্বান

ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। সাম্প্রতিক এক নিরাপত্তা সতর্কতায় দূতাবাস জানায়, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকজুড়ে, এমনকি কুর্দি অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন নাগরিক ও যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দূতাবাস মার্কিন নাগরিকদের বাগদাদে অবস্থিত দূতাবাস কিংবা এরবিলে কনস্যুলেট জেনারেলে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরাকের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রকেট হামলার ঝুঁকি বিদ্যমান থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হতে পারে।
মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আকাশপথ বন্ধ থাকায় নাগরিকদের বিকল্প হিসেবে স্থলপথ ব্যবহার করে দেশত্যাগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব ও তুরস্কের সীমান্ত দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মার্কিন নাগরিকদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাংলাদেশকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তির খবর দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদে চলাচলের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ইরানের এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সরবরাহ চেইন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। তবে বর্তমানে বাছাই করা কিছু দেশকে এই রুট ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তিনি জানান, অনেক দেশ ও জাহাজ মালিক নিরাপদে প্রণালি পার হওয়ার জন্য তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব দেশকে ইরান ‘বন্ধুপ্রতিম’ মনে করে বা বিশেষ প্রয়োজনে অনুমতি দেয়, তাদের জাহাজ চলাচলে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী নিরাপত্তা দিচ্ছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তালিকায় চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত ও বাংলাদেশের নাম রয়েছে। ইতোমধ্যে ভারতের দুটি জাহাজ এ সুবিধা নিয়ে প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গেও এ বিষয়ে সমন্বয় করা হয়েছে।
তবে শত্রু রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে ইরান কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেসব দেশকে ইরান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে বা যারা চলমান সংঘাতে জড়িত, তাদের জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে না। তার মতে, পুরো অঞ্চলটি বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় শত্রুপক্ষ ও তাদের মিত্রদের জন্য এই পথ কার্যত বন্ধ।
বর্তমানে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই কৌশলগত জলপথে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ফলে বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কার্যত তেহরানের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে।
শিপিং তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘লয়েডস লিস্ট’ ও বিশ্লেষণ সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ চলাচল করলেও চলতি মাসে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য ইরানের এ বিশেষ সুবিধা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
‘খারগ দ্বীপ’ দখলের চেষ্টা হলে একটি দেশে টানা হামলা চালাবে ইরান

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরানের শত্রুরা একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় ইরানের একটি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে তেহরান। সেটিকে খারগ দ্বীপ বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আলজাজিরা। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
বুধবার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক মাধ্যমে দুটি আলাদা পোস্টে এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘ইরানি বাহিনী শত্রুর গতিবিধি নজরদারি করছে। তারা যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে আমরা সেই আঞ্চলিক দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ধারাবাহিক ও নিরলস হামলা চালাব।’
ইরানের জনগণ মার্কিন সেনা ও যুদ্ধজাহাজের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন এবং তারা বুঝতে পারছে এর সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে।
অনেকেই মনে করছেন, পার্লামেন্ট স্পিকারের হুমকি আসলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকেই ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে খারগ দ্বীপ দখলের প্রচেষ্টায় উৎসাহ দিতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় প্রস্তুত জার্মানি

জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি হলে তা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে জার্মানি প্রস্তুত রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেসের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
পিস্টোরিয়াস বলেন, ‘আমরা যে কোনো শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে প্রস্তুত।’
তিনি আরও জানান, ‘যদি যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে শান্তি নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।’
তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চলছে
’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অবিশ্বাস্য দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের নেতারা অনানুষ্ঠানিকভাবে তাকে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা তাদের কথা স্পষ্ট শুনেছি। তারা বলছে, আমরা আপনাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা করতে চাই। আমি বলেছি, না ধন্যবাদ। আমি এটা চাই না।’
একই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চলছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে এতটা জিতেছি যা আগে কেউ দেখেনি। তারা আলোচনা করছে এবং চুক্তি করতে মরিয়া। কিন্তু তারা বলতে ভয় পাচ্ছে, কারণ তাদের ধারণা নিজের দেশের মানুষ তাদের মেরে ফেলবে।’
তবে তেহরান এই আলোচনার দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, ‘আপনার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আপনি নিজেই নিজের সঙ্গে আলোচনা করছেন? আমরা সবসময় বলে আসছি, আমাদের মতো মানুষ আপনাদের সঙ্গে কোনো চুক্তি করবে না। এখনো না। কোনোদিনও না।’
এদিকে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানে একটি ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে। এই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, হিজবুল্লাহসহ প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, তেহরান মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের একটি পাঁচ দফা পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে। এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে যুদ্ধ শেষ হবে ইরানের শর্তে।
সূত্র- ইন্ডিয়া টুডে