হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যাচাই এবং যুদ্ধ প্রস্তুতি জোরদারের অংশ হিসেবেই এ মহড়া পরিচালনা করা হচ্ছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এ মহড়া সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন আইআরজিসি’র শীর্ষ কমান্ডাররা। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, মহড়ায় দ্রুতগামী যুদ্ধজাহাজ, ড্রোন, উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট এবং বিশেষ নৌ কমান্ডো বাহিনী অংশ নিচ্ছে। সংকীর্ণ জলপথে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক কৌশল অনুশীলনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী, যা হরমুজ প্রণালী নামে পরিচিত, বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশের চলাচলের পথ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো সামরিক তৎপরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করার পরই ইরানের এ মহড়া শুরু হওয়ায় বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের সামরিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার অংশ। তবে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা এটিকে শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছে।
এদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনেও সমান্তরাল তৎপরতা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশ নিতে জেনেভায় পৌঁছেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ওয়াশিংটন একদিকে নিষেধাজ্ঞা ও চাপ অব্যাহত রাখলেও অন্যদিকে আলোচনার পথও খোলা রাখছে।
তেহরানের দাবি, ওমানের মধ্যস্থতায় ‘পরোক্ষ’ ইরান-মার্কিন পারমাণবিক আলোচনা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ইস্যুই আলোচনার কেন্দ্রে থাকছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন নিয়েও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামরিক মহড়া ও কূটনৈতিক আলোচনা এই দুই সমান্তরাল প্রক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও উভয় পক্ষ আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে না। তবে হরমুজ প্রণালীতে পরিস্থিতি যেকোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!