চিকিৎসকদের ওপর হামলা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আঘাত: এনডিএফ
রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এনডিএফের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন।   ছবি: আরটিএনএন

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলার প্রতিবাদে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় পৃথক আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

রবিবার (১৭ মে) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এনডিএফের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকেরা দিনরাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দেশে চিকিৎসকদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। এ ধরনের হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের ওপর নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আঘাত।

বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলা একটি সুপরিকল্পিত ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না, দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় চিকিৎসাসেবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এনডিএফের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের খুব কম দেশেই স্বাস্থ্যকর্মীরা এভাবে হামলার শিকার হন। কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো উচিত। হামলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আহত চিকিৎসককে দেখতে যাওয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে অবিলম্বে ‘চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

এনডিএফের সভাপতি ডা. মুক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন এনডিএফের সহসভাপতি ডা. অলিউল্লাহ, ডা. আতিয়া রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব, বিসিএস হেলথ ফোরামের ট্রেজারার ডা. আবু মোহাম্মদ, এনডিএফ ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ডা. হাসানুল মান্নানসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু না হলে দেশব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে আলটিমেটাম দেওয়া হয়।